নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে অটো চালকদের রাস্তা অবরোধের জেরে নাকাল হলেন যাত্রীরা।

দুষ্কৃতীদের হুমকির জেরে ভয়ে অটো চলাচল বন্ধ রেখেছিলেন চালকরা। বিষয়টি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনে নেতাদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু নিয়েও কোনও কাজ হচ্ছিল না। তাই ‘বাধ্য হয়ে’ সোমবার রাস্তা অবরোধ করে শাসক দলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেন কল্যাণীর গয়েশপুর এলাকার অটো চালকরা। আর তাঁদের সেই ‘দৃষ্টি আকষর্ণের ঠেলায়’ দিনভর হয়রান হতে হল যাত্রীদের। অবরোধের জেরে বাস-সহ অন্যান্য যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা ভ্যান বা অন্য কোনও যানবাহনে চেপে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন শাসকদলের স্থানীয় নেতারা। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভেজেনি। বেলা ৮টা থেকে অবরোধ চলে প্রায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে জেলা তৃণমূলের শ্রমিক নেতৃত্ব আলোচনার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ওই দিন সগুনা এলাকায় জনা কয়েক দুষ্কৃতী স্থানীয় অটো চালকদের অটো চালাতে বারণ করে। অটো চালকদের অভিযোগ, ওই রুটে অটো না চালিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে ম্যাজিক ও টুকটুক  গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা করেছে তারা। তার জন্য তাঁদের অটো চালাতে বারণ করা হয়। কয়েক জন অটোচালক প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের একজনকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। ভয়ে তাঁরা অটো চালানো বন্ধ রাখেন। বিষয়টি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনকেও জানানো হয়। কিন্তু তাতেও কেউ কণর্পাত করেননি বলে অভিযোগ। তাই এ দিন এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ শহরের বেদীভবন এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে দেন অটো চালকরা। গয়েশপুর চেকপোস্ট থেকে কল্যাণী ছুঁয়ে হুগলির ত্রিবেণী হয়ে ব্যান্ডেলে বাস যায়। সারা দিনে ১৪টি বাস ওই রুটে চলাচল করে। গয়েশপুর শহরের বিভিন্ন জায়গা যাত্রীরা কল্যাণীতে আসেন। কিছু যাত্রী কল্যাণী স্টেশন থেকে বাসে চেপে কল্যাণী গাঁধি মেমোরিয়াল হাসপাতালেও যাতায়াত করেন। হঠাত্‌ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই সব যাত্রীরা সমস্যায় পড়েন। কেউ কেউ রিকশায় চেপে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় কল্যাণী ডিসি বিল্ডিংয়ে তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে সভা চলছিল। খবর পেয়ে কর্মীরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারপরেও অবরোধ চলে। গয়েশপুর অটো ইউনিয়নের সম্পাদক বিপ্লব সিংহ বলেন, “আমরা তৃণমূলের সংগঠন করি। আমাদের সমস্যার কথা নেতাদের জানিয়েছি। কিন্তু তাঁদের থেকে কোনও উত্তর মেলেনি। বাধ্য হয়ে বিষয়টি সকলের নজর আনতে তাই শান্তিপূর্ণ অবরোধ করেছি।”

 জেলা আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি সুনীল তরফদার বলেন, “গত শনিবার অটো চালকরা তাঁদের সমস্যার কথা আমাকে জানিয়েছিলেন। আমি সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংগঠনের অফিসে আসার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু, তার আগেই এ দিন সকালে হঠাত্‌ রাস্তা অবরোধ কেন করলেন তা বুঝতে পারছি না।”

গয়েশপুর পুরসভার পুরপ্রধান সিপিএমের গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “শুনেছি অটো চালকরা বাস বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে পরিবহণ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানাননি। তিনি বলেন, “শহরের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা বাঞ্ছনীয়।”

কল্যাণীর মহকুমার শাসক স্বপন কুণ্ডু বলেন, “অটো চালকরা প্রশাসনকে কিছু না জানিয়ে অবরোধ করেছেন। ফলে, যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অটোচালকরা যদি তাঁদের সমস্যার কথা আমাদের জানাতেন, তাহলে নিশ্চই ব্যবস্থা নেওয়া হত। প্রয়োজন পুলিশের সাহায্য নেওয়া যেত।”

এ দিকে, অবরোধ চলাকালীন গোলবাজার এলাকায় অটো চালকদের ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।