• logo
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বহরমপুর: আমাদের চিঠি

2
ফুটপাথ জুড়ে বিকিকিনি, পথচারীদের চলার পথ নেই। —নিজস্ব চিত্র।
  • logo

Advertisement

প্রশাসন কি সবুজ বাঁচাবে?

ঐতিহাসিক শহর বহরমপুর আমাদের প্রাণ। সেই শহরের ব্যারাক স্কোয়ার ময়দান আমাদের গর্ব। আমাদের আবেগ, উতল প্রেমও বটে। এখানেই বসে সাহিত্যবাসর। হারিয়ে যাওয়া সবুজের প্রতিটি শিকড়ে, প্রতিটি ধুলিকণায় জমে আছে যুগযুগান্তের কবিতা, ছোটগল্প, সঙ্গীত ও চিত্রশিল্প সৃষ্টির কথিত ও অকথিত কাহিনি। এই  ময়দানেই জন্ম নিয়েছে হাজারো প্রেম-প্রণয়। আবার মুর্শিদাবাদ ও লাগোয়া নদিয়া, বীরভূম, বর্ধমান, মালদহের কত শত মানুষ চিকিৎসা বা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পরিষেবা পেতে প্রতিদিন বহরমপুরে জড়ো হন। প্রতিদিন পরম মমতায় তাঁদেরও ধারণ করে এই ঐতিহাসিক ময়দানবৃক্ষছায়া শোভিত আড়াইশো বছরের প্রাচীন এই সবুজসম্পদ।

ময়দানকে সবুজ আচ্ছাদনে ছেয়ে দিতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানের চারপাশ জুড়ে লাগিয়েছিল ‘রেনট্রি’। কেউ বলেন সেই বৃক্ষের চারা আমদানি করা হয়েছিল রেঙুন থেকে, কেউ বলেন আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে। বির্তক যা-ই থাকুক, বিদেশি ওই বৃক্ষরাজি যুগে যুগে বহরমপুরের জলবায়ুতে লালিত হয়েছে, এ দেশকে স্বদেশ জ্ঞানে আত্মীকরণ করেছে। ‘মাইগ্রেটেট’ সেই সব বৃক্ষরাজির অনেক গুলিই আজ মৃত। কেউ বলেন, কাঠ-মাফিয়ারা ধংস করেছে ঐতিহাসিক বৃক্ষরাজি। কেউ বলেন, বয়সের ভারে ও রোগভোগে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সেই ফাঁকা হয়ে যাওয়া জায়গায় নতুন করে কোনও গাছ লাগানো হয়নি। ওই ময়দানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে শহরের ব্যস্ততম রাস্তা ক্যান্টমেন্ট রোড লাগোয়া বিশাল একটি রেনট্রি বছর খানেক আগে মারা গিয়েছে। এক বছরেও সেই গাছ কাটার সময় পায়নি প্রশাসন। ফলে একদা প্রাণদায়ী ওই মহীরুহ প্রতি মুর্হূতে প্রাণঘাতী হওয়ার আাশঙ্কা জাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সারা বছর হেলিপ্যড, বইমেলা, কৃষিমেলা, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প মেলা, বস্ত্রমেলা জাতীয় অনুষ্ঠানে মাঠের দফারফা। একদা সমতল সবুজ ময়দান আজ ছোট ছোট গর্তে এবড়ো খেবড়ো, ঐতিহাসিক সবুজ আজ হলদেটে বিবর্ণ ধূসর। ব্যারাক স্কোয়ার মাঠ থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে শহরের মধ্যেই রয়েছে স্টেডিয়াম। সেখানে বিশাল বিস্তৃত এলাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে হেলিপ্যড, বইমেলা, কৃষিমেলা, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প মেলা, বস্ত্রমেলা জাতীয় অনুষ্ঠান স্থানান্তরিত করলে ব্যারাক স্কোয়ারের সবুজ বাঁচে। যান্ত্রিক ভাবনার খোলস ছেড়ে প্রশাসন কি সেই পথে পা বাড়াবে? নাকি সযত্মে ঐতিহাসিক সম্পদ ধ্বংসের দিকে ধাবমান হবে? আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ‘আমার শহর বহরমপুর’ সেই সঙ্গত ও সময়োপযোগী জরুরি প্রশ্নটি উসকে দিয়েছে।

সমীরণ ঘোষ, গোরাবাজার, বহরমপুর

 

শহরের জন্য দু’এক কথা

আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘আমার শহর’ আসলে একখণ্ড আত্মপ্রত্যাশা। কি চাই, অথবা কি পেতে পারি তার অবলোকন। কর্মসূত্রে এ বাংলার প্রায় প্রত্যেক জেলায় যাতায়াতের পর বহরমপুরে এসেছি সাত বছরেরও বেশি। অবলীলায় বলা যায়, প্রণয়ের শিকড় যেন মাটি পেয়েছে এই শহরে, এই ক’দিনে। তাই হয়ত পাতা ফুটেছে আকাঙ্খার। এই জেলা শহর এমনিতেই দিনে-রাত সমভাবে আলোকময়।

তবে সমস্যা হল অতিরিক্ত ধুলো। মুর্শিদাবাদ আসলে গঙ্গার পলি জমা এক উর্বর ভূমি! তাই শস্য সম্ভারের পাশাপাশিই রয়েছে ত্রুটির কণিকা। ‘জিরো পয়েন্ট জিরো ওয়ান থেকে পঞ্চাশ মাইক্রনোরে ধুলোকণা সারাদিন ছেয়ে থাকে মেঘের মতো (সূত্র: ৪০ মাইক্রনের কণাগুলি খালি চোখে দৃশ্য এবং ২৫৪০০ মাইক্রন এক ইঞ্চি সমান পুরু)। আমার শহরে ধুলো সমস্যা ছাড়াও আছে যানজট এবং পরিবহণ পরিকাঠামোগত কিছু অসুবিধা।  বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের পুরসভা এবং জেলাপরিষদ যথেষ্ট রুচিশীল। তাঁদের কাছে প্রস্তাব মোহনা বাস টার্মিনাস থেকে পঞ্চাননতলা পর্যন্ত যে বাবুলবোন রোড জাতীয় সড়ক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা প্রতিবছর মেরামত না করে স্থায়ী ঢালাই-কংক্রিট দিয়ে গড়ে তুলুন। সম্ভব হলে প্রস্থে দু’দিকেই আরও ৩ ফুট করে বাড়ান এবং রাস্তার মাঝে ২ ফুটের বুলেভার্টে বুশিপ্লান্ট লাগান। যানবাহনের চাকা মাটির সঙ্গে ঘর্ষিত না হলেই ধুলোমেঘ কমবে। আবার  বুশিপ্লান্টগুলো ধুলো নিষ্কাশনেও সহায়ক। যানজট কমাতে প্রয়োজন লরি পরিবহণ সমিতি গুলির অফিস ঘরের স্থানান্তরণ। মোহনা বাসটার্মিনাস থেকে রেলগেট পেরিয়ে পঞ্চানতলা মোড় পর্যন্ত অতিব্যস্ত সড়কের বুকের উপরেই লরিগুলি দাঁড় করান হয়। তার ফলে জাতীয় সড়ক হিসাবে ব্যবহৃত বাবুলবোনা রোডের পরিসর অনেকটাই কমে গিয়ে জনজীবন ব্যাহত করার যথেষ্ট কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও একটি কথা, সদর শহর বহরমপুর থেকে অনেক মহকুমায় বাসে যাতায়াত করে দেখেছি অতিক্রান্ত দূরত্ব এবং গাড়িভাড়ার কিছু আসাম্য আছে। বাসে যে ভাড়ার তালিকা টাঙানো থাকে তা কিন্তু এক্সপ্রেস বাসের। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠবে লোকাল বাস কি তবে নেই? দূরত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ছাপানো সময়-সারণি বাসে টাঙিয়ে রাখা জরুরি। এ বিষয়ে মাননীয় আরটিএ দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শেষে আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে একটি বিনীত অনুরোধ, শহরের কোনও একটি মুক্তমঞ্চে মুক্তমতদানের আলোচনা চক্রের আয়োজন করে নাগরিক স্বাচ্ছ্যন্দের উন্নয়নে আলোকপাত করতে পারেন আপনারা। খুলতে পারেন আমাদের মতামতের আরও জরুরি-জানালা।
কৌশিক গুড়িয়া, বহরমপুর

 

দখলদারদের পুনর্বাসন জরুরি

বহরমপুর শহরের টেক্সটাইল মোড় থেকে শুরু করে চার্চের মোড় হয়ে পশ্চিমমুখো হলে অতিরিক্ত জেলাশাসক ও লাগোয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বাংলো পর্যন্ত রাজপথের দু’দিক জবরদখল করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঝুপড়ি, অথবা পাকা দালান। আবার টেক্সটাইল মোড় থেকে শুরু করে পুবমুখো হয়ে সমবায়িকা মোড় দিয়ে মোহনা বাসটার্মিনাস পর্যন্ত পথের দু’পাশের ফুটপাথ জবরদখল করে চলছে বিভিন্ন ব্যবসা। পথ আজ আর পথচারীদের নেই। তা এখন চলে গিয়েছে জবরদখলকারীদের দখলে। অথচ প্রতি বছর ঘটা করে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন হয়। আসলে তা পথচারীদেরই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা ছাড়া আর কিছুই না। পুরনো কালেক্টরেট ভবন থেকে শুরু করে ফৌজদারি কোর্ট পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল সরকারি এলাকা রয়েছে, যেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায়। সেই ভবনে দিব্যি পুনর্বাসন দেওয়া যায় জবরদখলকারীদের। টিনের চালার নীচে দীনহীনের মতো চেয়ার-বেঞ্চ পেতে বসে থাকা আইনজীবীদেরও সুস্থ ও সুন্দর কার্যালয় করে দেওয়া যায় সেখানে। এ জাতীয় গঠনমূলক ভাবনায় প্রশাসন, সরকার ও পুরসভার অসুবিধা কোথায়? পুরসভার পক্ষ থেকে কে এন রোড বরাবর তিনতলা দোকানঘর তৈরি করে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। সেই সব ব্যবসায়ীরা ফের তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে রাস্তা দখল করেছে। এ বিষয়ে পুরসভার নজরদারি কোথায়?

কৃষ্ণেন্দু ঘোষ, বহরমপুর

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন