টানা  ২১ বছর তিনি তৃণমূলে।

দিন কয়েক আগে নদিয়ার কল্যাণী শিক্ষায়তন মাঠে মিলন উৎসবের মঞ্চ থেকে ঘোষণা হল--ঝুমুর বসুকে জেলা মহিলা তৃণমূল সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। স্থলাভিষিক্ত হলেন চাকদহের বিধায়ক রত্না ঘোষ। কেন?

ঝুমুর বলছেন, “মুকুল রায় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং নদিয়া জেলার পরিদর্শক ছিলেন। সে কারণে তার সঙ্গে দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার কথা হত। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছেন, আমার মতো তাদের সঙ্গেও তো মুকুল রায়ের কথা হয়েছে। কই, তাদের বিরুদ্ধে তো কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না?”

ক্ষোভ তাঁর স্পষ্ট। তার কারণও রয়েছে। জেলার ১৮৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মীদের এমন সক্রিয় করে তোলার পিছনে ঝুমুরের দান অস্বীকার করার উপায় যে নেই, জেলার তাবড় নেতারাও তা মেনে নিচ্ছেন।

জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত যে এই ঘোষণা করেন, সে দিন  মঞ্চের নীচে চুপ করে বসেছিলেন  ঝুমুর। ক্ষোভটা তাঁর গলায় তাই বেমানান লাগেনি দলের অন্য কর্মী-সমথর্কদেরও। “আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেটা আমি গুরুত্ব দিয়ে পালন করেছি। আমাকে কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা বুঝতে পারছি না।”

দলের এক প্রবীণ মহিলা কর্মীর প্রশ্ন, “ঝুমুর কী করেছেন, যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল?” রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁর স্বামী খুন হয়েছিলেন। তিনি পরে তার দেওরকে বিয়ে করেছিলেন। বছর না ঘুরতেই খুন হন তিনিও। সেই অর্থে তৃণমূলের একেবারে সাচ্চা শহীদ পরিবার। দলীয় কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, তৃণমূল দল শহীদ পরিবারের জন্য গর্ববোধ করে। আর ঝুমুর শহিদ পরিবারের কেউ নয়?

তাঁর জীবনে এ সবের কোনও মূল্য নেই? মঝে কয়েক বছর মেয়ের জন্য কিছুটা সময় ব্যয় করে ছিলেন ঠিকই, তারপরে অবশ্য তিনি দলের জন্য সঁপে দিয়েছেন নিজেকে, এমনই দাবি দলের একাংশের।

তাহলে কি কিছু লোকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাল নয় এবং সেই সঙ্গে মুকুল রায়ের নেকনজরে রয়েছেন বলেই সরিয়ে দেওয়া হল তাঁকে?

জেলায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্ন।