‘মানিক ডাক্তার’-কে সন্ত্রাসবাদী বলে মানতে রাজি নন ইছাখালির মানুষ। এমনকি বাম-ডান সব রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের গলাতেও রবিবার শোনা গিয়েছে মানিকের গ্রেফতার নিয়ে সংশয়ের সুর—“কোথাও কিছু ভুলচুক হচ্ছে না তো ?” 

‘জামাতুল মুজাহাদিন বাংলাদেশ’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মনিরুল ইসলাম বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণ কান্ডে জড়িত সন্দেহে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করেছে কলকাতার বিশেষ টাস্ক ফোর্স। ধৃত মনিরুল ইসলামকে ‘মানিক ডাক্তার’ নামেই চেনে মুর্শিদাবাদের ইছাখালি গ্রামের মানুষ। এলাকায় ওই পরিবারের নামডাক রয়েছে। বাবা রেজুয়ান বিশ্বাস রবিবার নিজের বাড়িতে বসে ছেলে মনিরুলের গ্রেফতারের খবরে কান্না সামলাতে পারছেন না। 

তাঁর অভিযোগ,  ‘‘শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ মোটরবাইকে চড়ে ইছাখালিতে ছেলে মনিরুলের চেম্বারে আসেন দুই ব্যক্তি। ছেলে তখন সাইদাপুরে আনাজ বাজারে যাচ্ছিল। তারাও তার সঙ্গে সাইদাপুরে যায়। তার পর থেকেই সাত দিন ধরে ছেলে নিখোঁজ। রঘুনাথগঞ্জ থানায় নিখোঁজের অভিযোগও করা হয়।’’ অথচ দু’দিন আগে শিয়ালদহে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানতে পারে ওই পরিবার। গোটা পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। কারণ পুলিশের তরফে মনিরুলের গ্রেফতারের কথা জানানো হয়নি ওই পরিবারকে।   

কংগ্রেসের বাড়ি বলে পরিচিত রেজুয়ান বিশ্বাসের পরিবার। ১৯৮৩ সালে রঘুনাথগঞ্জ-২ পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষও নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু বয়সের ভারে এখন রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে। ছেলেরা অবশ্য সে ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হননি। রেজুয়ান বলছেন, “আমার বড় ছেলে বাংলাদেশ কেন, কখনও দু’দিনের জন্যও পরিবার ছেড়ে থাকেনি। সেই ছেলেকে সন্ত্রাসবাদী বলে গ্রেফতার করা হল, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। পুলিশের কাছে আমার আর্জি বিস্ফোরণ কেন, অসামাজিক কোনও কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ দিন। আমি তখন তার কঠোর শাস্তি চাইব।’’ 

এলাকার বাসিন্দা প্রাক্তন বিধায়ক কংগ্রেস নেতা আবুল হাসনাত  বলছেন, “এলাকায় মনিরুলকে মানিক ডাক্তার হিসেবেই চেনে সবাই। কয়েক পুরুষ ধরে গ্রামে আছেন ওই পরিবার। এক কথায় ভাল মানুষ হিসেবেই পরিচিতি রয়েছে মানিক ও তার ভাইদের।  তাই জঙ্গি সন্দেহে তার গ্রেফতার কেউ মানতেই পারছে না।” এলাকার সিপিএম নেতা সাহাবুদ্দিন শেখও বলছেন, “গোটা পরিবার কংগ্রেসি ঘরানার। নির্বিরোধী পরিবার তারা। কোন সূত্রের ভিত্তিতে মনিরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানা নেই। তবে আমাদের চোখে কখনও খারাপ কিছু পড়েনি।” গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের আসাফুদ্দোলার কথা, “এক কথায় সৎ মানুষ হিসেবেই এলাকায় সকলেই চেনে জানে মনিরুলকে। রোগীদের চিকিৎসা নিয়েই থাকতেন বেশির ভাগ সময়। তবে গ্রামের লোকের সঙ্গে মেলামেশা ছিল কম।”