বিয়ের আট মাসের মাথায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক তরুণীর। রবিবার ঘরের মধ্যে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সঞ্চিতা অধিকারী ওরফে পুতুল (১৯)। রবিবার ঘটনাটি ঘটে গাংনাপুর থানার দেবগ্রাম তালপুকুর এলাকায়। মৃতদেহ রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন পুতুলের বাপেরবাড়ির লোকেরা। সোমবার তাঁর স্বামী রাজকুমার অধিকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বাপেরবাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায়। আট মাস আগে তিনি রাজকুমারকে বিয়ে করেছিলেন। রাজকুমার পেশায় একজন মাছ বিক্রেতা। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে তিনি মাছ বিক্রি করেন। অন্য দিনের মতো এ দিনও তিনি মাছ বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে তিনি স্ত্রীয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।

সঞ্চিতার বাপেরবাড়ির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে রাজকুমার বিভিন্ন সময় ওই তরুণীকে বাপেরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতেন। কয়েক দিন আগেও তিনি মোটরবাইক কেনার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন।

মৃত পুতুলের জেঠা গৌতম পাণ্ডে বলেন, “নাবালিকা বলে আমরা মেয়ের বিয়ে দিতে চাইনি। ছেলের বাড়ির লোকেরা তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাদের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। মেয়ের মুখে শুনেছি, বিয়ের পর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য মারধর করত। এবার গাড়ি কিনবে পঞ্চাশ হাজার টাকা চেয়েছিল।  সেই টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য মেয়ে বাপেরবাড়িতে চলে এসেছিল।’’ তিনি জানান, শনিবার রাজকুমার এসে তাঁকে নিয়ে যান। পরের দিন তাঁরা জানতে পারেন সঞ্চিতা মারা গিয়েছেন।