অপেক্ষা শেষ। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী আসনের ফল ঘোষণা করা যাবে। সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুক্রবার এই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। এটা জানার পরেই উচ্ছ্বাসে ভাসলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। 

রায় ঘোষণার পর থেকে শাসক দলের অফিস থেকে নেতাদের বাড়ির সামনে দলীয় কর্মীরা ভিড় জমান। মিষ্টিমুখ, সবুজ আবির, পটকা— বাদ গেল না কিছুই। কোথাও কোথাও বিজয় মিছিলও বেরিয়েছে। ফরাক্কা থেকে ডোমকল, লালগোলা থেকে রেজিনগর, সালার থেকে নবগ্রাম— জেলার সর্বত্রই ছবিটা ছিল এমনই।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় জেলা পরিষদের ৭০টি আসনের মধ্যে ২২টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। ৪৮ টি আসনে বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন শাসকদলের প্রার্থীরা। জেলার ২৬টি পঞ্চায়েত সমিতির ৭৩৬টি আসনের মধ্যে ২৬৪টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। ৪৭২টি আসনে শাসকদলের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। ২৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪১৭১টি আসনের মধ্যে ১৪৯১টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। ২৬৭৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন শাসক দলের প্রার্থীরা। হরিহরপাড়ার গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর জেরে সেখানে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। সুপ্রিম কোর্ট কোন দিকে রায় দেয় সে দিকে তাকিয়ে ছিল সব পক্ষই।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় জয়ী আসনগুলির ফল ঘোষণা করতে পারেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে যাঁরা নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে গত ১৬ ও ১৮ অগস্ট মুর্শিদাবাদের ২৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই সব গ্রাম পঞ্চায়েতের রেজিস্টার, চেকবই, টাকা-সহ সমস্ত সম্পতি বিডিওদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মত নিজেদের হেফাজতে সেই সম্পতি নিয়েছেন বিডিওরা। মুর্শিদাবাদের ৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সব আসনে নির্বাচন হয়েছে। ওই পঞ্চায়েত এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির যে সব আসন পড়ে সেগুলিরও নির্বাচন হয়েছে। ফলে ওই ৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ মাসের ২৭ ও ২৮ তারিখ ওই ৪১ টি পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন হবে। জেলার ২৬টি পঞ্চায়েত সমিতির মেয়াদ আগামী ২৯-৩০ অগস্ট শেষ হবে। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৮ সেপ্টেম্বর।