প্রধানশিক্ষক আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছেন বলে জানিয়ে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে গত শুক্রবার লিখিত অভিযোগ করেছেন স্কুলের ১২ জন সহ-শিক্ষক। ঘটনার কেন্দ্রস্থল নাকাশিপাড়া ইষ্ট সার্কেলের অন্তর্গত দাদুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অভিযোগকারী শিক্ষকেরা দাবি করেছেন, তাঁরা স্কুলের অর্থনৈতিক লেনদেনের হিসাব চাইতে গেলেই প্রধানশিক্ষক জানান, অর্থনৈতিক লেনদেন শুধু প্রধান শিক্ষকের ব্যাপার, অন্যরা যেন এ ব্যাপারে মাথা না গলান।

২০১৭ সালে স্কুলে অতিরিক্ত ছাত্রসংখ্যা দেখিয়ে মিড ডে মিলের জন্য বেশি টাকা তোলা ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছিল। তখনও অভিভাবক এবং সহকারী শিক্ষকেরা অভিযোগ তোলেন। আবার ২০১৮ সালের জুলাই মাসে মিড ডে মিলে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও ভুয়ো ছাত্র সংখ্যা মিড ডে মিল সেলে পাঠিয়ে বেশি টাকা তোলার একই অভিযোগ ওঠে। যার জেরে গ্রামবাসীরা স্কুলে তালা মেরে বিক্ষেোভ প্রদর্শন করেন। ব্লক অফিস তদন্ত চালায় ও প্রধানশিক্ষক হরিপদ দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর পর দীর্ঘদিন তিনি স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। ওই সময় ব্লক অফিস থেকে মৌখিক ভাবে সহ-শিক্ষকদের মিড ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ, কিছু দিনের মধ্যেই প্রধানশিক্ষক স্কুলে ফিরে এসে মিড ডে মিলের ক্যাশ বইয়ের দখল নেন। কিছু দিন আগেই  মিড ডেল মিল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ফের স্কুলে বিক্ষোভ দেখান। 

ছাত্রছাত্রীদের নিম্নমানের স্কুলের পোশাক দেওয়া এবং ভুয়ো ছাত্রসংখ্যা দেখিয়ে কম্পোজিট গ্রান্টের অভিযোগও উঠেছে।  শিক্ষকেরা আরও দাবি করেছেন, বদলির ভয় দেখিয়ে তিনি তাঁদের রেজল্যুশন খাতায় সই  করিয়ে নেন। নাকাশিপাড়ার বিডিও কল্লোল বিশ্বাস বলেনা, ‘‘তদন্ত হবে।’’ অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষককে ফোন করা হলে তাঁর পরিবারের এক সদস্য বার বার ধরেছেন এবং জানান, তিনি বাড়ি নেই।