মিড-ডে মিলের হাল দেখতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন প্রশাসনের কর্তা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা তাঁকে সামনে পেয়ে সাহস করে বলে বসলেন, ‘‘স্যর, কাঠ বা অন্য জ্বালানি দিয়ে আমাদের রান্না করতে হয়। উনুনের ধোঁয়া ঢুকে পড়ছে ঘরে। কষ্ট পাচ্ছেন প্রসূতি ও শিশুরা। আমাদের বাঁচান স্যর। রান্নার জন্য গ্যাসের ব্যবস্থা করে দিন।’’
শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) সুদীপ্ত পোড়েল গিয়েছিলেন বহরমপুরের গুরুদাসপুরের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। সেখানে বিষয়টি শোনার পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে শুধু গুরুদাসপুরের ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রই নয়, জেলার কোনও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই রান্নার জন্য গ্যাসের ব্যবস্থা নেই। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ৯ হাজার ৭৭টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের অনুমোদন রয়েছে। তার মধ্যে ৮ হাজার ৭৫৪টি চালু রয়েছে। এই সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশু, গর্ভবতী মায়ের সংখ্যার উপরে হিসেব করে জ্বালানির খরচ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রত্যেক দিনের রান্নার জন্য এক-একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে ১৯ টাকা থেকে ২৩ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা ও কর্মীরা জানাচ্ছেন, দফতর থেকে জ্বালানির যে দাম দেয় তাতে কুলোয় না। এ ছাড়া রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহার না করার কারণে ধোঁয়ায় ভরে যায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। প্রসূতি ও শিশুরা সেই ধোঁয়ায় কষ্ট পান। সেই কারণে তাঁরা চান, রান্নার জন্য দ্রুত গ্যাসের ব্যবস্থা করা হোক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার হাতে গোনা দু’একটি বিদ্যালয় বাদে সর্বত্র মিডডে মিলের রান্না হয় গ্যাসে। কিন্তু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে তেমন ব্যবস্থা নেই। তবে বছর খানেক আগে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে গ্যাস দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার পরে আর এগোয়নি।  
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা জানাচ্ছেন, গ্যাসে রান্না হলে কালো ধোঁয়ার হাত খেকে সকলেই রক্ষা পাবেন। শিশুদের পঠন-পাঠনে ব্যঘাত ঘটবে না। বর্ষাকালের জ্বালানির যে সমস্যা হয় তা মিটবে। তাঁদের দাবি, বর্ষাকালে কাঠ এবং অন্য জ্বালানি জলে ভিজে যায়। একটানা বর্ষা হলে কোথাও কোথাও রান্নাও হয়না। গ্যাসে রান্না হলে সেই সমস্যাও দূর হবে।