সকালবেলায় পাড়ায় পাড়ায় মাইক দিয়ে সতর্ক বার্তা। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বজ্র-বিদ্যুৎ-সহ সাইক্লোনের আশঙ্কা। ফলে, নদীতে স্নান করা, মাছ ধরা বা নদী তীরবর্তী এলাকায় যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশের তরফে বৃহস্পতিবার দিনভর প্রচার চলল। আতঙ্কে কাটালেন নবদ্বীপে মানুষ। যদিও পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহওয়ার উন্নতি হয়। গুরুত্ব হারায় পুলিশের ওই ঘোষণা।  

এমনিতেই পুজোর মুখে নিম্নচাপের জেরে নবদ্বীপে গঙ্গা ফুলে-ফেঁপে  বিপদসীমা ছাড়িয়ে বইছে। কেউ কেউ বন্যার ভয়ও পাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কোনও বড় বিপদ হয়নি। উল্টে গত চার দিন ধরে জলস্তর তিনফুটের বেশি নেমে গিয়েছে। এই অবস্থায় সাইক্লোনের ঘোষণায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় শহরে। এলাকার মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে খবরাখবর নিতে শুরু করেন। অন্য দিকে ছুটির মরসুমে বেড়াতে আসা পর্যটক থেকে ব্যবসায়ী মহল উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে, গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় জটলা সৃষ্টি হয়। আলোচনার কেন্দ্রে সেই সাইক্লোনের সতর্কবার্তা। 

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা আলিপুরের এরিয়া সাইক্লোনিক ওয়ার্নিং সেন্টারের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ৮ ও ৯ অক্টোবর অন্য জেলার সঙ্গে নদিয়া জুড়ে বজ্রপাত-সহ বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্কতামূলক বার্তা থানাগুলিতে পাঠান হয়। ওই বার্তায় ১০, ১১, ১২ অক্টোবরের জন্য কোনও সতর্কবার্তা ছিল না। তবুও বৃহস্পতিবার মাইক নিয়ে শহরে সতর্কবার্তা ঘোষণায় বিভ্রান্তি ছড়ায়। 

নবদ্বীপের বিডিও বরুণাশিস সরকার বলেন, “এমন কোনও সতর্কবার্তা আমাদের কাছে আসেনি। বা পুলিশের তরফ থেকেও কিছু জানানো হয়নি। বিভিন্ন মানুষ মাইক প্রচার শুনে আমাদের ফোন করেন। তা থেকেই জানতে পারি নবদ্বীপে এমন সতর্কবার্তা প্রচার হয়েছে। জেলার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে তারাও এমন সতর্কবার্তার হদিস দিতে পারেনি।” 

নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক গোপাল দাস বলেন, “আমাদের কাছে সাইক্লোনের বা কোনও সতর্কতার বার্তা ব্লক প্রশাসন কিংবা পুলিশ জানায়নি।” 

নবদ্বীপের আইসি কল্লোলকুমার ঘোষ বলেন, “উপরমহল থেকে আগামী আটচল্লিশ ঘণ্টা ঝড়-জলের সতর্কতা ছিল। সেটাই নদীতীরের মানুষ এবং গঙ্গায় পারাপারকারীদের জানিয়ে দেওয়ার জন্য ওই মাইকে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়।” অন্য দিকে, এই প্রচারের জেরে ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাতিল করেন আনন্দ দাস। ক্ষুব্ধ আনন্দ এ দিন সন্ধ্যায় নবদ্বীপ থানায় ছুটে আসেন। তিনি জানান, “বৃহস্পতিবার আমার ছেলে পাঁচ বছরে পা দিল। তার প্রথম জন্মদিনে বাড়ির ছাদে প্যান্ডেল করে আয়োজন করেছিলাম। ওই প্রচার শুনে সব বাতিল করেছি। পরে শুনছি তেমন কিছুই নয়। আমি আইসি-র কাছে জানতে চাইব কেন এমন প্রচার করা হল!” পুলিশ সুপার জাফর আজমল কিদোয়াই বিস্মিত। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা নিয়ে নবদ্বীপ থানা কেন এ ধরনের প্রচার করল, তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান পুলিশ সুপার।a