ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন হাসপাতালে আউটডোর ও ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আজ, সোমবার জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে আউটডোর বন্ধ থাকলেও হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত চেম্বারে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাধা নেই বলে আইএমএ সূত্রে জানানো হয়েছে। 

জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের জেরে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়লেও নদিয়ার বাকি সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যথারীতি কাজ চলছে। জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ড, সবই চালু আছে। কিন্তু এ বার আইএমএ-র কেন্দ্রীয় কমিটি ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় আজ চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাবে। 

এর আগে এক দিন চিকিৎসকেরা পরিষেবা বন্ধ রাখায় হয়রানির শিকার হয়েছিলেন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরা। চেম্বার বন্ধ থাকায় অনেক মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে ঘুরতে হয়েছিল পরিবারের লোকেদের। তার পরেও অনেকে চিকিৎসা পাননি। সে দিন হাতে গোনা কয়েক জন চিকিৎসক রোগীদের কথা ভেবে চেম্বারে জরুরি ভিত্তিতে রোগী দেখেছিলেন। সোমবার সেই সংখ্যাটা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একটা অংশ। 

আইএম-এর কৃষ্ণনগর শাখা কমিটির সহ-সম্পাদক তথা শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক অনির্বাণ জানা জানাচ্ছেন, প্রয়োজনে তিনি নিজের চেম্বারে জরুরি ভিত্তিতে বিনা পয়সায় রোগী দেখবেন। যাঁদের অস্ত্রোপচার করেছেন, তাঁদেরও দেখে দেবেন। অনির্বাণ বলছেন, “ধর্মঘটের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন আছে। কিন্তু যাঁদের অস্ত্রোপচার করেছি, তাদের চেক-আপ করা আমার কর্তব্য। জরুরি রোগী এলেও দেখব। আমাদের সংগঠনের তেমনই সিদ্ধান্ত। চিকিৎসার অভাবে কারও জীবন সংশয় হোক, সেটা চাই না।” 

কেউ-কেউ আবার নিজের চেম্বার  খোলার বদলে হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা আরও পোক্ত করার কথা ভাবছেন। আউটডোর খোলা না হলেও তাঁরা হাসপাতালে উপস্থিত থাকবেন। শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের বর্ষীয়ান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সুধাংশুশেখর জানা জানান, তিনি চেম্বারে রোগী দেখবেন না। তাঁর তত্ত্বাবধানে যে সব প্রসূতির চিকিৎসা চলছে তাদের জরুরি সমস্যা হলে বরং হাসপাতালেই আসার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রয়োজনে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসুন। আমি থাকব। চিকিৎসা করব।”

চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে এই আন্দোলনকে সমর্থন করলেও রোগীদের হয়রানি নিয়েও বিচলিত চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। তাঁরা চাইছেন, দ্রুত এই অচলাবস্থা কাটুক। জেলা হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলছেন, “আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা যেন অহংয়ে আটকে না যাই। সরকারি হাসপাতালে আউটডোর বন্ধ রাখলে গরিব মানুষের সমস্যা হয়। তাঁদের তো বিকল্প চিকিৎসা জোটানোর সংস্থান নেই।” 

সত্তর ছুঁই-ছুঁই শল্য চিকিৎসক সমীর চৌধুরী বলছেন, ‘‘আমাদের সময়েও সমস্যা তৈরি হত। কিন্তু তখন মানুষকে বোঝানো যেত। তাঁরা ধৈর্য ধরে কথা শুনতেন। এখন মানুষের সেই ধৈর্য নেই। নানা হতাশা তাদের অসহিষ্ণু করে তুলছে। আর তারই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে নিরস্ত্র চিকিৎসক ও নিচুতলার পুলিশকর্মীদের উপরে।” সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, “আমি চাই, সাধারণ রোগীদের কথা ভেবে দু’পক্ষই অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে সমস্যার সমাধান করুন। এটা আর টেনে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।” 

আইএমএ-র কৃষ্ণনগর শাখা কমিটির সভাপতি রমেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, “আউটডোর বন্ধ থাকলে গরিব মানুষের সমস্যা হয় বেশি, এটা ঠিকই। কিন্তু ডাক্তারদের নিরাপত্তাও তো সুনিশ্চিত করতে হবে।”  ।