সন্দেশখালিতে বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনার  প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং পথ অবরোধ করল বিজেপি।

 এ দিন দুপুরের দিকে কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড়ে নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মহাদেব সরকারের নেতৃত্বে বিজেপির কর্মীরা পথ অবরোধ করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর কোতোয়ালি থানার পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর অবরোধ তোলা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাকাশিপাড়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর স্ট্যাচুর মোড়ে পথ অবরোধ হয়। এলাকার প্রায় ২০০ জন দলীয় কর্মী ওই অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেন। কালীগঞ্জ বাজারেও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। মহাদেব বলেন, ‘‘লোকসভা ভোটের পর নানা জায়গায় তৃণমূল বিজেপির উপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে জেলা জুড়ে এই কর্মসূচি। এই হিংসাত্মক রাজনীতি বন্ধ না হলে পরবর্তী কালে আরও বড় কর্মসূচির ব্যবস্থা করব আমরা।’’

এ দিন চাকদহ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। রবিবার দুপুর ২টো থেকে এই বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। দলের জেলা এবং চাকদহ শহরের নেতারা সমাবেশে হাজির ছিলেন। বিজেপি নেতা সন্তু সরকার বলেন, “ওই ঘটনায় আমদের দলের আরও দু’জন কর্মীকে এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের উদ্ধার করতে হবে। দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। আগামীতে যাতে  এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে দিকে নজর দিতে হবে।” রানাঘাট, গাংনাপুর থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে বলে বিজেপি’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সকালে করিমপুর ১ নম্বর ব্লকে বিজেপি কর্মীরা পথ অবরোধ করেন। পাট্টাবুকা সেতুর কাছে প্রায় ৪০ মিনিট করিমপুর বহরমপুর সড়ক আটকে রাখেন দলীয় নেতা, কর্মী এবং সমর্থকেরা।

নবদ্বীপে দু’জায়গায় পথ অবরোধ হয়। রবিবার বেলা ১২ টায় গৌরাঙ্গ সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। গৌরাঙ্গ সেতু রোডে অবরোধ শেষ হতে না হতেই বেলা ১ টায় অন্য প্রান্তে বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশন লাগোয়া শ্রীরামপুরগামী রাস্তায় অবরোধ শুরু হয়। পথ অবরোধের  কারণে জেলার বিভিন্ন রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে যানবাহন। দুপুরের গরমে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত এক যাত্রী বলেই ফেলেন, ‘‘এঁরা অবরোধ করেন সাধারণ মানুকে জানানোর জন্য, কিন্তু এঁরা এটা বোঝেন না যে, এর জেরে সাধারণ মানুষের কতটা অসুবিধা হয়।’’