বাজছিল হ্যামেলিনের বাঁশি। মডেলে ফুটে উঠছিল জোকার জীবনের করুণ কাহিনি। বিলি হচ্ছিল ফুল। 

দিব্যি চলছিল। সন্ধ্যায় বিগ্রহবাড়ি দিয়ে শুরু হয়েছিল শান্তিপুরের রাসের শোভাযাত্রা। চলল টানা ভোর অবধি। মাঝে হোঁচট শুধু আরব্য রজনীতে!

রাত তখনও গভীর হয়নি। বেজপাড়া বারোয়ারির শোভাযাত্রায় এলইডি বোর্ডে মিশরের মরুভূমি, উট। মিশরীয় নৃত্যশিল্পী মহম্মদ আল আটা আলি দেখাচ্ছেন তাঁর দেশের ‘তানুরা ডান্স’। এল বানজারা ডান্সও। আর তার পরেই চলন্ত মঞ্চে ঝলকানি-আলোয় কোমর দুলিয়ে নাচছেন তিন স্বল্পবসনা যুবতী। দেখে ভুরু কোঁচকালেন রাস্তার দু’ধারে জড়ো হওয়া অনেকেই। অনেকে আবার অতি উৎসাহে ধেয়ে গেলেন সে দিকে। বিশেষত অল্পবয়সীরা। মোবাইলে ছবি উঠল, ভিডিয়োও বাদ গেল না।

প্রত্যাশিত ভাবেই, শহর জুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই নাচ নিয়ে। শান্তিপুরের সনাতন ঐতিহ্যবাহী রাসে এই ধরনের নাচ-গান কতটা মানানসই, উঠেছে সেই প্রশ্নও। উদ্যোক্তাদের দাবি, তাঁরা ভিন্ দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোন দেশের ‘সংস্কৃতি’ এর মাধ্যমে তুলে ধরা গেল, এই নাচের সঙ্গে মিশরেরই বা কী সম্পর্ক, তা বোধগম্য হয়নি অনেকেরই। 

বাকি নানা বারোয়ারি অবশ্য ছিল চেনা ছন্দেই। ত্রিকোণ পার্ক মডেলে তুলে ধরেছিল মিশরের পিরামিড থেকে মমি, মিশরের নৃত্যশৈলী। দত্তপাড়া পাঁচমাথা মোড়ে নবমিলন বয়েজ ক্লাবের শোভাযাত্রায় মডেলে ফুটিয়ে তোলা হল জোকারদের জীবন। বড়বাজার যুব গোষ্ঠীর মডেলে ফুটল জন্মাষ্টমী থেকে দোল। নতুনপাড়া অভিযাত্রী সঙ্ঘ তাদের ৫০তম বর্ষে হাজির করেছিল নানা প্রদেশের নৃত্য। ঢেঙ্কানলের শিল্পীরাও পরিবেশন করলেন নাচ। দত্তপাড়া কলোনি নটরাজ ক্লাব আলোয় ফোটাল ফুলের বাগান, জীবন্ত মডেলে হাজির পরিও। শোভাযাত্রা থেকে দর্শকদের পরানো হল ফুলের ব্যাজ। উড়িয়া গোস্বামীপাড়া বারোয়ারির শোভাযাত্রায় ছিল জাগলিং আর কথা বলা পুতুল। ভারতমাতা ক্লাব এনেছিল ছৌ। চড়কতলা বারোয়ারি ইয়ং স্টাফ, ষষ্ঠীতলা বারোয়ারি, এবিসিডি ক্লাব, নিউ বর্ন ক্লাবও নজর কাড়ল।

দিন কয়েক আগেই শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রী পুজোর শোভাযাত্রা ঘিরে ঝামেলা হয়। তার তুলনায় রাসের শোভাযাত্রার বিশালতা অনেক বেশি। লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল পথে। শোভাযাত্রার গতি শ্লথ হলেও সম্পন্ন হল নির্বিঘ্নেই। পুলিশ এ যাত্রায় পাশ!

চোরকাঁটা হয়ে বিঁধে রইল শুধু তিনকন্যার নাচ।