• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রাঙা চোখে কর্তারা বাজারে

Black marketing
নজরদারি: রঘুনাথগঞ্জে দোকানে দোকানে অবস্থা খতিয়ে দেখছেন প্রশাসনের কর্তারা। নিজস্ব চিত্র

আজ, রবিবার জনতা কার্ফু। বাজার দোকান বন্ধ থাকবে। সেই ভয়ে কেনাকেটার ভিড় শনিবার সারা দিনই দেখা গেল। কিন্তু কোনও ব্যবসায়ী যাতে বেশি দাম নিতে না পারেন, কোনও পণ্যের যাতে কালোবাজারি না হয়, সে জন্য মাঠে নামল পুলিশও।  শনিবার সকালে ডিএসপি সদর সুব্রত সাহা  ও বহরমপুর থানার আইসি সনৎ দাসের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন বাজারে পুলিশ অভিযান চালায়। বহরমপুর শহরের কান্দি বাসস্ট্যান্ডের বাজার, নতুন বাজার সহ একাধিক আনাজ বাজারের আলুর আড়ত ও মুদিখানার দোকানে হানা দেন পুলিশ আধিকারিকেরা। তাঁরা কোন দোকানে কেমন জিনিস মজুত আছে তা যেমন দেখেন, পাশাপাশি মজুত হওয়া সেই সমস্ত জিনিস কেমন দামে বিক্রি হচ্ছে সেই বিষয়েও খোঁজ নেন। 

পুলিশ সুপার অজিত সিংহ যাদব বলেন, ‘‘কোনও জায়গায় কালোবাজারি মজুতদারি করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার পুলিশ বিভিন্ন বাজার ও মুদিখানার দোকানে অভিযান চালিয়েছে। কালোবাজারি রুখতে এই অভিযান লাগাতার চলতে থাকবে।’’

তবে স্কুলের পড়ুয়াদের আলু ও চাল বিলি করা হচ্ছে বলে তার প্রভাবও বাজারে পড়বে বলে মনে করছেন অনেক ব্যবসায়ী। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাড়ি বাড়ি ওই চাল ও আলু গেলে বাজারে চাহিদা কম থাকবে, তাতে দরও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকবে। যেমন, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত ফসলও বাজারে আসবে কম দামেই। তাতেও বাজার থাকবে নিয়ন্ত্রণেই। গণবণ্টন ব্যবস্থার উপরেও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তােও বাজারে পণ্য মজুত করার প্রবণতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে শহর এলাকায় মধ্যবিত্তের মধ্যে জনতা কার্ফুর আগে ঘরে কিছু জিনিসপত্র মজুত করে রাখার প্রবণতা বাড়ছে। সেই সুযোগটাই যাতে কোনও  অসাধু ব্যবসায়ী নিতে না পারেন, সে দিকেই নজর দিচ্ছে প্রশাসন। বহরমপুরের কয়েক জন বাসিন্দার কথায়, গত সপ্তাহ থেকে সব ধরনের আনাজে কেজি পিছু চার-পাঁচ টাকা করে দাম বেড়েছে। 

ব্যবসায়ীরা জানান, করোনাভাইরাস আতঙ্কের জেরে অতিরিক্ত আনাজ কিনে নিচ্ছেন। যার জেরে চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। যে খরিদ্দার আগে এক কেজি আলু কিনতেন, এখন তিনি ব্যাগ ভর্তি করে পাঁচ কেজি করে আলু কিনছেন। বহরমপুরের আনাজের এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে অকাল বৃষ্টির জেরে মাঠে কিছু আনাজের ক্ষতি হয়েছে। ফলে চাষিদের কাছে কিছুটা বেশি দাম দিয়ে আনাজ কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া গত কয়েক সপ্তাহ থেকে পোলট্রি মুরগির মাংসের সঙ্গে করোনারভাইরাসের গুজবের জেরে অনেকেই মাংস ছেড়ে আনাজের দিকে ঝুঁকেছেন। তার উপরে নতুন করে করোনাভাইরাসের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। লোকজন অতিরিক্ত আনাজ কিনতে ছুটছেন। তবে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলেন, ‘‘বাজারে জোগান স্বাভাবিক রয়েছে। কালোবাজারি করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’’ 

বহরমপুর শহরের ইন্দ্রপ্রস্থের বাসিন্দা দ্বিজেন কর্মকার কান্দি বাসস্ট্যান্ডের আনাজ বাজার করতে এসেছিলেন। তিনি বলছেন, ‘‘রবিবার জনতা কার্ফু হবে শুনলাম। তাই কিছুটা অতিরিক্ত আনাজ কিনে রাখলাম।’’

শহরের কান্দি বাসস্ট্যান্ডের আনাজ বিক্রেতা সানোয়ার শেখ বলেন, ‘‘চারিদিকে যে ভাবে গুজব ছড়াচ্ছে তাতে লোকজন অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত আনাজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন