কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, তিনি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শেষমেশ দলের নীতিবিরোধী কাজ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে করিমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষকে বহিষ্কার করল সিপিএম। তবে অদূর ভবিষ্যতে তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কি না, সোমবার রাত পর্যন্ত তা পরিষ্কার হয়নি। 

সোমবার সকালে সিপিএমের করিমপুর দলীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। করিমপুর এরিয়া কমিটির ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই এরিয়া কমিটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আসাদুল খান সমরেন্দ্রনাথ ওরফে সমর ঘোষের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার তথ্য পেশ করেন। অভিযোগ পর্যালোচনার পরে দলের গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারার ১৩ নম্বর উপধারায় নীতি-নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মর্মে দলের জেলা কমিটির কাছে বহিষ্কারের সুপারিশও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

আসাদুল বলেন, “দলের গঠনতন্ত্র না মেনে, নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে উনি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন। বেশ কিছু দিন ধরে সেই খবর পাওয়ার পরেই এ দিন জরুরি বৈঠক ডেকে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা কমিটি এরিয়া কমিটির সুপারিশ মেনে সমরেন্দ্রনাথ ঘোষকে বহিষ্কার করেছে।”  

এসএফআই থেকে উঠে আসা সমরেন্দ্রনাথ ১৯৯৬ থেকে সিপিএমের দলীয় সদস্য। ২০০৮ থেকে ২০১১ অবধি তিনি নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০১১-র বিধানসভা ভোটে সিপিএমের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেতেন। কিন্তু ২০১৬ সালে কংগ্রেস-সিপিএমের জোটপ্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রের কাছে হেরে যান। ‌‌ ঘটনাচক্রে, এ দিন সকালেই তিনি ফেসবুকে দল থেকে ‘অবসর’ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “দলীয় ভাবে আমাকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তাই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।”  

সিপিএমের জেলা সম্পাদক সুমিত দে বলেন, ‘‘উনি গত পঞ্চায়েত এবং লোকসভা নির্বাচনেও দলবিরোধী কাজ করেছিলেন। তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তার পরেও তিনি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তাই তাঁকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে।’’

এ বার সরাসরি বিজেপিতেই চলে যাবেন প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক? করিমপুরে ইতিমধ্যে বিজেপি ভাল রকম মাথাচাড়া দিয়েছে। সমরেন্দ্রনাথ নিজে এই নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে বিজেপির উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহাদেব সরকার বলেন, ‘‘উনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমাদের দলে আসবেন কি না, এলে কবে আসবেন, সে সব এখনও ঠিক হয়নি।’’