নবদ্বীপে নাটক

নবদ্বীপে কোনও স্থায়ী নাট্যমঞ্চ না থাকায় স্থানীয় নাট্যদলগুলির ক্ষোভ ছিল। সম্প্রতি নবদ্বীপে পুরসভার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এক অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, রবীন্দ্র সংস্কৃতি মঞ্চ। মার্চের শেষ সপ্তাহে সেখানেই চার দিন ধরে নবদ্বীপ নাট্য উন্নয়ন পরিষদের আয়োজনে ৩৯তম নাট্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অভিনেতা এবং নাট্য পরিচালক নবদ্বীপের ভূমিপুত্র নিত্য গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাজ্যের মন্ত্রী পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা। ওই অনুষ্ঠানে নবদ্বীপ নাট্য উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিদায়ী পুরপ্রধান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। মোট পনেরোটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। তার মধ্যে চারটি ছিল ছোটদের নাটক— বিদ্যার্থী মণিমেলার ‘স্বপ্নের বাগান’, নবদ্বীপ সায়কের (শিশু বিভাগ) ‘মনের ব্যাধি’, উত্থিত গোষ্ঠীর ‘চাবিকাঠি’ এবং চন্দ্রকিরণ শিশু নিকেতনের ‘টাকডুমাডুম’। অন্য প্রযোজনার মধ্যে ছিল গয়েশপুর মঞ্চসেনার ‘চিত্তপট’, কৃষ্ণনগর রূপকথার ‘হট্টমালার ওপারে’, বর্ধমান স্বপ্নাঙ্গনের ‘উত্তর-পূর্ব’ এবং বর্ধমান প্রয়াসের ‘খাঁচা’। দীপেন্দ্র নাট্য অ্যাকাডেমি পরিবেশন করে ‘কথোপকথন’, প্রগতি পরিষদ ‘মূল্যমান’, ক্রান্তদর্শীর ‘চেনা অধ্যায়’, প্রতিভাসের     ‘আঁখিপল্লব’ চারমূর্তির ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, উত্তরপ্রবেশের ‘হারানো প্রাপ্তি’ এবং সমস্বরের একক অভিনয় ‘বিষ্ণুপ্রিয়ার চিঠি’। নাটক দেখতে ভিড় উপচে পড়ে।

 

সঙ্গীতের আসর

পাশ্চাত্য যন্ত্রে প্রাচ্যের মার্গ সঙ্গীতের সুর তুলে শ্রোতাদের মুগ্ধ করলেন কানাডার দুই সহোদর। দিনকয়েক আগে বহরমপুর শহরে প্রয়াত সাহিত্যিক নিরুপমাদেবীর বাড়িতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের আসর বসে। সেই আসরে জনাথন কেই ও অ্যান্ড্রু কেই নামে কানাডার ওই দুই বাসিন্দা অলটো স্যাক্স ও ব্যারিটন স্যাক্স যন্ত্রে জয়ন্তী, মালকোষ, পূরবী রাগে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। এ ছাড়াও ফরাসি সুরকার জন পোস্টের লেখা ‘ইন্ডিয়া’ নামে একটি মার্গ সঙ্গীতও তাঁরা পরিবেশন করেন। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থা ঋদ্ধি-র কর্ণধার তথা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অভিজিৎ ভট্ট বলেন, ‘‘আট বছর আগে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিক্ষার জন্য কানাডার ওই দুই ভাই শান্তিনিকেতনে আসেন। এর আগে তাঁরা টরেন্টো কলেজ থেকে সঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন।’’ ঋদ্ধি-র আর এক কর্ণধার, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মনোজ সান্যাল বলেন, ‘‘কানাডার ওই দুই সঙ্গীত শিল্পী ইতিমধ্যে কানাডা, ঢাকা, দিল্লি, কলকাতা, সিডনি ও মেলবোর্নে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন।’’ অনুষ্ঠান শুরু হয় শিল্পী ইমন বিশ্বাসের স্তোত্রপাঠ দিয়ে। তিনি ইমন ও রাগেশ্রী রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন। ওই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন সুমনা ধর।

 

ঐতিহ্য দিবস

নবদ্বীপ পুরাতত্ত্ব পরিষদের উদ্যোগে ১৮ এপ্রিল বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস পালিত হল। এই উপলক্ষে ওই দিন পুরাতত্ত্ব পরিষদের সভাঘরে ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এ বছর ৫০ জন শিক্ষার্থী ওই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছিল। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী মঠ, মন্দির, ভবন, বিগ্রহ, লোকসংস্কৃতির স্মারকের ছবি। পরিষদের সম্পাদক শান্তিরঞ্জন দেব জানান, হাজার বছরের প্রাচীন শহর নবদ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঐতিহ্যপূর্ণ স্থান ও স্মারক। সেগুলি যাতে নতুন প্রজন্ম চিনতে পারে, তাদের সম্পর্কে জানতে পারে সেই উদ্দেশে এই প্রতিযোগিতা। গত বেশ কয়েক বছর ধরে নবদ্বীপ পুরাত্তত্ব পরিষদ ১৮ এপ্রিল ঐতিহ্য দিবস পালন করে আসছে।

 

সম্প্রতি রবীন্দ্রসদনে অনুষ্ঠিত বহরমপুর ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের একটি মুহূর্ত।— নিজস্ব চিত্র।

 

কৃষ্ণনগরে আসার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেই উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের
মহড়া কৃষ্ণনগর জেলা স্টেডিয়ামে।—নিজস্ব চিত্র।