জেলাশাসকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের একাংশ যে কর্মবিরতি করার ভাবনাচিন্তা করছিলেন, তার আর প্রয়োজন রইল না। নদিয়ার জেলাশাসক পবন কাদিয়ানকে অর্থ দফতরের যুগ্মসচিব পদে ফিরিয়ে দিল নবান্ন। নতুন জেলাশাসক হচ্ছেন হলদিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটির  সিইও বিভু গোয়েল।

মাস দুয়েক আগে সুমিত গুপ্তের জায়গায় নদিয়ার জেলাশাসক হয়ে আসেন পবন কাদিয়ান। প্রথম থেকেই ছুটিছাটা, অসুস্থতা বা আরও নানা বিষয়ে ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অনেকেই ভিতরে- ভিতরে ফুঁসছিলেন। গত সপ্তাহে ডানকুনি পুরসভার এগজ়িকিউটিভ অফিসার রিজওান ওয়াহাবকে ফোনে তাঁর কুরুচিকর কথা বলার অভিযোগ সামনে আসার পরে ক্ষোভ উস্কে ওঠে। 

সম্প্রতি রিজওয়ানের বদলি হয়েছে কৃষ্ণনগর জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি পদে। কিন্তু এক মাসের মধ্যে তিনি ওই পদে যোগ দেননি। গত শুক্রবার ছড়িয়ে পড়া একটি অডিয়ো ক্লিপে শোনা যায়, নিজেকে নদিয়ার জেলাশাসক বলে দাবি করে এক জন তাঁকে ফোনে বলছেন, ‘আপনাকে নাঙ্গা করে মারব’। যদিও এই অডিয়ো ক্লিপের সত্যতা আনন্দবাজার যাচাই করেনি। কিন্তু ফোনে এই হুমকির কথা জানাজানি হতেই জেলা তথা রাজ্যের ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের একটা বড় অংশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। 

এর পরেই ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নদিয়া জেলার সদস্যেরা বৈঠক করে তার লিখিত সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য কমিটির কাছে পাঠান। ওই রাতে জেলাশাসকের বাংলোয় গিয়ে তাঁর সঙ্গেও কথা বলেন অফিসারদের প্রতিনিধিরা। তাঁদের একাংশের দাবি, পবন কাদিয়ান ক্ষমাও চেয়ে নেন। এর পরে পদক্ষেপ কী হবে, তা তাঁরা রাজ্য কমিটির উপরে ছেড়ে দিয়েছিলেন। অফিসারদের একাংশের ইচ্ছা সত্ত্বেও রাজ্য কমিটি মহ্গলবার কর্মবিরতি করার অনুমোদন  দেয় নি। 

অফিসার সংগঠনের এক নেতার মতে, “কর্মবিরতি করলে সরকারের বিরুদ্ধে তা চলে যেত। জেলাশাসক ক্ষমা চাওয়ার পরেই আমরা সেই অবস্থান থেকে সরে আসি। তবে আমরা কিন্তু ওঁর অপসারণের দাবিতে অনড় ছিলাম।” আর এক কর্তার কথায়, “বিষয়টি নিয়ে আজ প্রায় সব জেলার সংগঠনের লোকজন বৈঠকে বসেছিলেন। তাঁরা সকলেই আমাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। রাজ্য কমিটিতে আজ বৈঠক হয়েছে। নবান্ন পবন কাদিয়ানকে বদলি করে দেওয়ায় আমরা খুশি।”

রিজওয়ান জানিয়েছিলেন, তাঁকে যিনি আগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেবেন, তিনি ছুটিতে থাকায় তিনি ছাড়া পাননি এবং নদিয়ার কাজে যোগ দিতে পারেননি। এ দিন আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পবন কাদিয়ান ফোন ধরেননি, মোবাইলে মেসেজের জবাবও দেননি।