বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে রানিনগরের চর রাজানগরের ঘটনা। ধৃতের নাম সৌমেন মণ্ডল। তার বাড়ি থেকে ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতকে বুধবার বহরমপুরে সিজেএমের এজলাসে হাজির করানো হলে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এই নিয়ে চলতি বছরে ৫৬১টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হল। যা গত বছরের থেকে অনেকটাই বেশি।

জেলার পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ‘‘সৌমেন ঝাড়খণ্ড ও নওদার ত্রিমোহিনী এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনে এলাকায় বিক্রি করত। মঙ্গলবার রাতে অস্ত্র-সহ আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি।’’

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বাড়ির উঠোনের নীচে ওই আগ্নেয়াস্ত্র পুঁতে রাখা হয়েছিল। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি নাইন এমএম পিস্তল, পাঁচটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি মাস্কেট, চারটি পাইপ গান, একটি রিভলভার, দশটি ম্যাগাজিন এবং ২৯ রাউন্ড গুলি। জেলা পুলিশের হিসেব বলছে, ২০১৮ সালে জেলায় ৩৮৮টি বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল, ৮৪৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছিল। গ্রেফতার করা হয়েছিল ৪৩২ জন অস্ত্র কারবারিকে। ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৫৬১টি অস্ত্র, ১৪২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৯৫ জনকে।

কয়েক মাস আগেই লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখন ভোটের সে তাপ-উত্তাপ আর নেই। তা সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলছেন, ‘‘এখন তো নির্বাচন নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বেগে আছি।’’

ওই আধিকারিকের উদ্বেগ যে অমূলক নয় তা সাম্প্রতিক ঘটনা বলে দিচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনের পরে মুর্শিদাবাদের ডোমকল, বহরমপুর নওদা, হরিহরপাড়া, কান্দি-সহ একাধিক জায়গায় খুন-জখমের ঘটনা ঘটেছে। যেগুলিতে কোথাও গুলি, কোথাও বোমা ব্যবহার হয়েছে। যার শেষতম সংযোজন ডোমকলের জুড়ানপুর গ্রাম। সোমবার রাতে সেখানে বোমার আঘাতে জখম হয়েছেন তৃণমূলের এক নেতা।