উল্টোরথের মেলা উপলক্ষে গ্রামে বসেছিল মেলা। আর সেই মেলার বড় আকর্ষণ ছিল সঙ। দলগত সঙ ছিল ১৪টি। তবে রবিবার বেলডাঙার কালীতলার ওই মেলায় সবচেয়ে নজর কেড়েছে ‘কাটমানি সঙ’। 

বেলডাঙা-আমতলা রাজ্য সড়কের উপর কালীতলা মোড় লাগোয়া বাসস্ট্যান্ড। তার পাশেই বসেছিল উল্টোরথের মেলা। সেখানেই আয়োজন করা হয় সঙ প্রতিযোগিতার। মেলার মাঠ লোকে লোকারণ্য। তবে লোক টেনেছে ‘কাটমানি’। গ্রামের এক যুবককে প্রধান সাজানো হয়েছে। তাঁর বুকে সাঁটানো কাগজে লাল কালিতে লেখা— ‘প্রধান’। তাঁকে গ্রামের জনতা বাঁশ দিয়ে পেটাচ্ছে। ‘প্রধান’-এর মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। আর লোকজন কাটমানি ফেরত চাইছে। তাঁদের হাতেও পোস্টার। সেখানে লেখা, ‘আমাদের টাকা ফেরত চাই।’ ‘প্রধান’ চিৎকার করছেন, ‘আমাকে মেরো না। টাকা ফেরত দেব। দিব্যি করছি সকলের সামনে। কাটমানির টাকা আমার কাছেই আছে। কিন্তু আমাকে বাঁচিয়ে না রাখলে টাকা পাবে না। কোনও দিন ভোটেও দাঁড়াব না।’

 পথচলতি লোকজন এমন কথাবার্তায় প্রথমে অবাক হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ছিলেন। পরে অবশ্য সঙ বুঝতে পেরে বেজায় মজা পেয়েছেন। উচ্ছ্বসিত দর্শকদের কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘‘সাজানো প্রধান না হয় টাকা ফেরত দেবেন বলছেন। কিন্তু বাস্তবে অন্যত্র কী হবে?’’ কেউ বলেছেন, ‘‘টাকা নেওয়ার সময় খেয়াল ছিল না। এখন বাধ্য হয়ে ফেরত দিতে হচ্ছে।’’

কালীতলার একটি ক্লাবের পরিচালনায় বসেছিল এই সঙের আসর। ক্লাবের সম্পাদক অজয় মণ্ডল বলেন, ‘‘কালীতলা দাসপাড়া কাটমানি নিয়ে একটা সঙের আয়োজন করে। সেই সঙ দেখে মানুষ খুব প্রশংসাও করেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সঙ দেখে বিচারকেরা তাদের পুরস্কারও দিয়েছেন।’’

কাটমানি সঙের অভিনেতা বানেশ্বর হাজরা, বিজয় দাস, দীনবন্ধু দাসদের কথায়, ‘‘টিভি খুললেই কাটমানির খরব। খবরের কাগজেও তাই। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের এই উদ্যোগ।’’

ওই মেলায় এসেেছিলেন ছিলেন বেলডাঙা ১ ব্লক (উত্তর) তৃণমূলের সহ সভাপতি উজ্জ্বল গায়েন। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কাটমানি ফেরতের কথা বলেছেন‌। তিনি রাজ্যের মানুষকে বার্তা দিয়েছেন। এই সঙেও সেই দৃশ্যই দেখানো হয়েছে।’’