শুধুই কি রাস? নাকি কৃষ্ণনগর, তেহট্টের পাশাপাশি শান্তিপুরের সূত্রাগড়ও ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে জগদ্ধাত্রী পুজোর মানচিত্রে?

যা শুনে সূত্রাগড় জানাচ্ছে, হয়ে উঠছে আবার কী কথা! ইতিমধ্যে স্বমহিমায় জায়গা করে নিয়েছে শান্তিপুরের এই জনপদ। বেশ কয়েক বছর ধরে থিম, আলো আর প্রতিমার নতুনত্বের টানে শান্তিপুরের বাইরের মানুষও ছুটে আসছেন সূত্রাগড়ে।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে কৃষ্ণনগরে যে জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়েছিল, পরে শহররের মানুষের কাছে সেই পুজো প্রধান উৎসবে পরিণত হয়। পরবর্তীতে শান্তিপুরের সূত্রাগড়েও জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন হয়। বর্তমানে সূত্রাগড়ও দাবি করতেই পারে, জগদ্ধাত্রী তাদের এলাকার অন্যতম বড় উৎসব। প্রতি বছরই বাড়ছে পুজোর সংখ্যা। এ বছরই প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়া পুজোর সংখ্যা ৮১টি। এর বাইরেও আছে একাধিক পুজো।

অষ্টমী-নবমীর সূত্রাগড় ভেসে গিয়েছে মানুষের ভিড়ে। কয়েকদিন পরেই  রাস। এই উৎসবে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শান্তিপুর। কিন্তু সূত্রাগড় যেন একটু আলাদা। তার মাতামাতি যেন জগদ্ধাত্রীকে নিয়েই। এখানকার প্রাচীন পীরের হাট বারোয়ারি, চড়কতলা বারোয়ারি, কৃষ্ণকালীতলা-সাহাপাড়া বারোয়ারি, সেনপাড়া বারোয়ারি, ষড়ভুজ বাজার বারোয়ারি, তাম্বুলিপাড়া বারোয়ারি, সূত্রধরপাড়া বারোয়ারী, নতুনবাজার বারোয়ারি, তুলসীমন্দিরতলা বারোয়ারি, কদবেলতলা বারোয়ারি, রাজপুতপাড়া বারোয়ারি, ছোটমা ও ব্রহ্মশাসনের পুজো বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। এক একটা বারোয়ারিতে এক একটা দেব-দেবীর মূর্তিপূজো হয়।

সূত্রাগড়ের বর্ধিষ্ণু ভট্টাচার্য পরিবারেও জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। সেই পরিবারের সদস্য গৌতম ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘জগদ্ধাত্রীর আরাধনা হলেও মণ্ডপে মণ্ডপে নানা দেব-দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়। এটাই সূত্রাগড়ের রাসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।’’ আর সেই কারণে অনেকেই এটাকে ‘সূত্রাগড়ের রাস’ বলতে শুরু করেছেন।

জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে এখানে শতাধিক দেব-দেবীর পুজো হয়। পুরপ্রধান তৃণমূলের অজয় দে বলেন, ‘‘শান্তিপুরের সূত্রাগড়ের জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস বহু পুরনো। এই পুজোর সঙ্গে কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ি সরাসরি জড়িত। রাজবাড়ির লোকজন সূত্রাগড়ের জগদ্ধাত্রী পুজো যাতে দেখতে পান, তাই কৃষ্ণনগরে যে দিন প্রতিমা বিসর্জন হয় তার পরের দিন সূত্রাগড়ে বিসর্জন হয়।’’

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, সূত্রাগড়ে কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ির একটা বড় হাট ছিল। আর ছিল কাছারিবাড়ি। সেখানেই পীরতলায় কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়। এখনও এখানকার পুজোর সংকল্প হয় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নামে। শোনা যায়, একটা সময় ছোট রেলগাড়ি বোঝাই হয়ে কৃষ্ণনগর থেকে বহু লোকজন সূত্রাগড়ে আসতেন বিসর্জন দেখতে। আর সেই সমস্ত লোকজনের টিকিটের খরচ বহন করা হত রাজকোষ থেকে।