শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পঞ্চায়েতে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা কাটল। বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ অনশনরত চাকরিপ্রার্থীদের চার জনের প্রতিনিধি দল কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে পরীক্ষা ও নিয়োগপত্র সংক্রান্ত ফাইল তাঁর হাতে তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন। 

বস্তুত, আন্দোলনকারীরা ভাবতেই পারেননি যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ভাবে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাঁদের তরফে সৌরভ ঘোষ বলেন, “জানতাম, মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমরা আন্দোলন করে বিষয়টি তাঁর নজরে আনার চেষ্টা করছিলাম।” মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের খবর কৃষ্ণনগরে পৌঁছনোর পরেই অনশন তুলে নেওয়া হয়।

 ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ পঞ্চায়েত দফতরে চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগের লেখা পরীক্ষা হয়েছিল।  তার পরে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ২ অগস্ট ১৩২ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই থেকে একটা-একটা করে দিন চলে গিয়েছে। কিন্তু নিয়োগপত্র পাননি নির্বাচিতেরা। তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের কর্তা— সকলের দুয়ারে ঘুরেছেন। শুধু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। বাধ্য হয়ে তাঁরা আন্দোলনে নামেন। 

নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে গত ২৩ জুলাই থেকে জেলা পরিষদের সামনে অবস্থান শুরু হয়। এরই মধ্যে এক দিন তাঁদের জেলা পরিষদের সভাধিপতির ঘরে ডেকে কয়েক জন বিধায়কের উপস্থিতিতে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই প্রতি দিন ছ’জন করে ‘রিলে অনশন’ শুরু করেন তাঁরা। জেলা পরিষদের তরফে সংশ্লিষ্ট দফতর ও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। মঙ্গলবার বিকেলে নদিয়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠান। বুধবার চার জন গিয়ে দেখা করেন। 

তাঁদেই অন্যতম সৌরভ বলেন, “ফাইলটা হাতে দেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এক বছর ধরে যা হয়নি তা একবেলার মধ্যে করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী!” জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি অর্থ দফতরের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেখানে এত দিন আটকে থাকায় নিয়োগপত্র দেওয়া যাচ্ছিল না। জেলা শাসক পবন কাদিয়ান বলেন, “আমরা আজই রাজ্যের অনুমোদন পেয়েছি। এ বার দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।”