মাটিতে টাকা আছে। টাকায় আসে মাটি। আর এই মাটি-টাকার খেলাটা ভালই রপ্ত করে ফেলেছেন ‘দাদারা’। 

কোনও ধাঁধা নয়, এই কথাটার মানে খুব স্পষ্ট করে জানেন বেলডাঙা ২ ব্লকের বাসিন্দারা। সেখানে মাটির কারবারও এখন আর পাঁচটা ব্যবসার মতোই বেশ জনপ্রিয়। ভাবখানা এমন যে, অন্য কোনও কাজ জুটছে না? তা হলে মাটির কাজই করা যাক!

সে কাজ যদি বেআইনি হয়? উত্তর আসে, ‘‘হোক না! দাদা আছে তো।’’ আর কে না জানে, এ দাদা আলাদা। এ দাদার ক্ষমতাও তেমন। 

জমির মালিক ট্যাঁ-ফোঁ করলে? 

—‘দাদা সামলাবে।’

বাইরে থেকে কেউ মাতব্বরি করলে?

—‘দাদা দেখে নেবে।’

থানা-পুলিশ হলে?  

—‘দাদা আছে তো!’

শক্তিপুরের এক বাসিন্দা বলছেন, ‘‘এ বার আপনারাই বুঝে নিন, দাদারা কারা? আমরা তো সবই জানি, দেখি। কিন্তু কিছু বলার উপায় নেই। বলতে গেলে মাটির সঙ্গে কবে হয়তো ভিটেটাও যাবে। আর যারা ক্ষমতায় থাকে, ক্ষমতাও তো তাদের কাছেই বাঁধা থাকে।’’   

কথাটা আরও স্পষ্ট হয়ে যায় বেলডাঙা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তৃণমূলের যাদব ঘোষের কথাতেও। তিনি বলছেন, ‘‘আর বলবেন না, কোনও আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে মাটি কাটা চলছে। এ সব কাজে দলীয় নেতৃত্বের একাংশও জড়িত। বিষয়টি প্রশাসনকেও বহু বার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।’’ যা শুনে বেলডাঙা ২ ব্লক (পশ্চিম) তৃণমূলের সভাপতি সত্যনারায়ণ রায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এ নিয়ে যেখানে যা জবাব দেওয়ার, সেখানেই দেব। প্রশাসন তদন্ত করুক। তাহলেই তো সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, শুধু শক্তিপুর জুড়েই প্রায় ২৫০টি ট্রাক্টর মাটি নিয়ে ছুটে বেড়ায়। এই মাটি কোথাকার, কোথায় যাচ্ছে এ মাটি, এ কাজে কারা জড়়িত, কারা সাহস জোগাচ্ছে— সবই জানে পুলিশ-প্রশাসন। কিন্তু বছর আসে, বছর যায়। ফুলে-ফেঁপে ওঠে কারবার। মাটি লুট বন্ধ হয় না। এই মাটি কাটা নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের আকচাআকচির কথাও কারও অজানা নয়।

অভিযোগ, পলাশি সুগার মিলের জমির মাটিও একই ভাবে লুট হচ্ছে। সুগার মিলের মুর্শিদাবাদ ফার্ম ম্যানেজার রফিক শেখ বলেন, ‘‘শক্তিপুরেই মিলের জমি রয়েছে প্রায় তিন হাজার বিঘা। সে সব জমি থেকে প্রতিদিন মাটি লুট হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে নাম ধরে ধরে মাটি চুরির অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।’’ 

বেলডাঙা ২ বিডিও সমীররঞ্জন মান্না বলেন, ‘‘মাটি কাটার বিষয়ে ইতিমধ্যে পুলিশ বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে। মাটি লুট যাতে না হয় সে ব্যাপারে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।’’