ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপির রাখাল কোথায়, থানায় বিক্ষোভ
সোমবার দলের পতাকা ছাড়াই রানাঘাট মহিলা থানায় গিয়ে এই দাবি জানান বিজেপির একাংশ। অভিযোগকারিণী নিজেও থানায় গিয়েছিলেন।
rakhal

রাখাল সাহা। —ফাইল চিত্র।

ভোট মিটে যাওয়ার বেশ কয়েক দিন পর ফের ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপি নেতা রাখাল রঞ্জন সাহার শাস্তি চেয়ে সরব হলেন অভিযোগকারিণী। তিনি রানাঘাটে বিজেপির মহিলা মোর্চার অন্যতম নেত্রী।

সোমবার দলের পতাকা ছাড়াই রানাঘাট মহিলা থানায় গিয়ে এই দাবি জানান বিজেপির একাংশ। অভিযোগকারিণী নিজেও থানায় গিয়েছিলেন। এ দিনও তিনি পুলিশের বিভিন্ন স্তরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন। রানাঘাট থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে এ দিন ওই নেত্রী দাবি করেন, “গত ১১ এপ্রিল দলের কাজে জেলা কার্যালয়ে গিয়েছিলেম। সেই সময় রাখাল সাহা সেখানে ছিলেন। তিনি অফিস সম্পাদক। আমাকে একটা ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে তিনি আমাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করেন ও তার পর মেঝেতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি কোনও রকমে সেখান থেকে পালাতে পারি। কিন্তু দলের নেতাদের কাছে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে, পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।” 

ওই নেত্রীর আরও অভিযোগ, ‘‘রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা বিজেপির জেলা সভাপতি জগন্নাথ সরকার কয়েক জনকে পাঠিয়ে দশ লক্ষ টাকার টোপ দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করছেন। মামলা না-তুললে পরিণাম ভাল হবে না বলে হুমকিও দিয়েছেন। আমি আতঙ্কিত। আমার মনে হছে, পুলিশ সঠিক ভাবে কাজ করছে না। এক মাস হয়ে গিয়েছে, তাঁকে ধরা যায়নি। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা না-হলে আমরা ছাড়ব না।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার চার দিন পর, গত ১৫ এপ্রিল রাখালরঞ্জন সাহার বিরুদ্ধে রানাঘাট মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। কিন্তু ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক। তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় হানা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাওয়া যায়নি। তল্লাশি জারি রয়েছে। 

জগন্নাথ সরকার বলেন, “যে দিনের ঘটনার কথা বলা হচ্ছে সে দিন আমি অফিসে ছিলাম। মহিলার সঙ্গে আমার দেখাও হয়েছিল। সে দিন কিন্তু তিনি আমাকে কিছু বলেননি। পরে অনেক কিছু শুনতে পাচ্ছি আমাকে জড়িয়ে বলা হচ্ছে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে এ সব করা হচ্ছে।”