শেষ প্রচারে পথে-প্রান্তরে প্রার্থীরা
ছবিটা প্রায় একইরকম ব্যস্ততার মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র জুড়েও। লাগামছাড়া ঘোড়া হয়ে প্রর্থীরা সকলেই ছুটে বেড়ালেন গাঁ-গঞ্জ-শহর।
candidates

প্রার্থীরা প্রচারে।

রোদ ছিল, মেঘও। এমন অনুকূল রবিবারে, প্রচারের শেষ দিনে জেলার দুই কেন্দ্রের প্রর্থীরা নিজেদের নিংড়ে দিয়ে ভোট পাখি হয়ে উড়ে বেড়ালেন নিজেদের কেন্দ্রের প্রত্যন্ত আনাচ কানাচে। জঙ্গিপুর শহর থেকে দূরের গ্রাম, ডোমকলের মাঠ থেকে নদীর কোল।

এ দিন সাত সকালে, জঙ্গিপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় তাঁর প্রচার শুরু করেছিলেন জঙ্গিপুরের সদরঘাটে। জনা বিশেক কর্মী নিয়ে শুরু করা সেই প্রচার এক সময়ে মিছিলে গড়াল। শহরের চায়ের আড্ডা থেকে শহর ছাড়িয়ে গ্রামে গিয়ে পৌঁছল তা বেলা গড়ানোর আগে।

চায়ের দোকানে আড্ডা তাঁর এই প্রথম নয়। অভিজিতের কথায়, “চায়ের দোকানই পাড়ার সব খবর রাখে, সেখানে কান না পাতলে চলে!’’

আশ্বাস থেকে প্রতিশ্রুতি সে আড্ডায় নিজেকে উজাড় করে ভাঁড়ে চুমুক মেরে কখনও উঠে পড়েছেন গাড়িতে। কখনও পায়ে পায়ে হেঁটেছেন অলিগলি ভেঙে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

ছুটির দিনটা ব্যবহার করলেন বিজেপি প্রার্থী মাফুজা খাতুনও। এ দিন সকাল থেকে শহর ঘুরে বিকেলে তিনি রওনা দিলেন সুতির আহিরণে। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি আহিরণ। গ্রাম পঞ্চায়েতও বিজেপির দখলে। মাফুজার দাবি, ‘‘দেখছেন তো শেষ বেলায় এসেও কেমন উচ্ছ্বাস। এখান থেকে লিড নিয়েই বেরব আমরা। এখানকার মানুষের জমি নিয়ে সমস্যাটা মেটাতেই হবে।” 

তৃণমূল প্রার্থী খলিলুর রহমান অবশ্য এ দিন সকাল থেকেই চষে বেরিয়েছেন বিড়ি শিল্প শহর অরঙ্গাবাদ আর বিড়ি শ্রমিক মহল্লা। সঙ্গে আর এক বিড়ি মালিক ও তৃণমূল নেতা ইমানি বিশ্বাসও। জঙ্গিপুরে প্রায় ১৬ লক্ষ ভোটারের ৬ লক্ষই বিড়ি শ্রমিক। যার একটা বড় অংশই থাকে অরঙ্গাবাদে। ন্যায্য মজুরি না পাওয়া ও কাজ কমে যাওয়া নিয়ে বিড়ি শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। খলিলুরের আশ্বাস, “জিতলে আগে বিড়ি শ্রমিকদের সমস্যা মেটাব।’’

ছবিটা প্রায় একইরকম ব্যস্ততার মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র জুড়েও। লাগামছাড়া ঘোড়া হয়ে প্রর্থীরা সকলেই ছুটে বেড়ালেন গাঁ-গঞ্জ-শহর। এ দিন দুপুরে লালবাগে লালঘোড়া ছোটালো বামেরা। অন্য দিকে কংগ্রেস প্রার্থী আবু হেনা সকালে ইসলামপুরের চর এলাকায় প্রচার সারলেন নিজস্ব ভঙ্গিতে। সাত্তার সাহেবের ছেলে বলে কথা! রাস্তার পাশে পুরুষ থেকে মহিলারা ভিড় জমালো তাঁকে দেখতে। আর বৈশাখের দুপুরে মুর্শিদাবাদ এলাকায় নিজেই গোড়ার গতিতে ছুটলেন বিজেপি প্রার্থী হুমায়ূন কবীর। তবে শাসক দলের প্রার্থী আবু তাহেরের শেষ প্রচারটা মাঠে মারা গিয়েছে জনতার ‘দেব দর্শন’ না হওয়ায়।