ভোট বৈতরণী
ঢেউ ওঠে প্রতিশ্রুতির, নদী মরে যায় নিঃশব্দে
বছর দশেক আগেও নদীপথে অল্প খরচে বাঁশ যেত কলকাতায়। কিন্তু এখন তা-ও প্রায় বন্ধের মুখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভৈরবের উৎস মুখে বালির চড়া পড়েছে।
bhairav

মিছিল, মিটিং, সভা, প্রচার সবই চলছে। কিন্তু ভোটারদের কেউ মনে করতে পারছেন না যে, প্রচারে এসে কোনও নেতা-নেত্রী বা প্রার্থী নদী-নালার কথা বলেছেন! তবে সরাসরি প্রার্থী কিংবা নেতাদের এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাঁরাও দাবি করছেন, ‘‘আমরাও তো নদী-নালা নিয়ে সরব।’’ মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বদরুদ্দোজা খান বলছেন, ‘‘এক সময় মুর্শিদাবাদে নদী ভাঙন বড় সমস্যা ছিল। তখন নদী ভাঙন নিয়ে আমরা কথা বলতাম। ভাঙন এখন কম হওয়ায় আপাতত সেই ইস্যু নেই।’’ তবে তাঁর দাবি, ‘‘কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে পরিকাঠামোর ঘাটতি, অনুন্নয়ন, সাম্প্রদায়িকতা, দেশ জুড়ে গোরক্ষকের হাতে হামলা, সীমান্তরক্ষীদের হাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মতো হাজারও ইস্যুর মাঝে নদী মজে যাওয়ার ইস্যু চাপা পড়ে যায়। তবে এখন নদী নিয়ে বলার সময় এসেছে। নদীর উপর অত্যাচার বন্ধ না করলে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে। সরকারের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।’’

মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি আবু হেনা এ বারে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন। তাঁর দাবি, ‘‘আমরা বরাবরই নদী খাল বিল বাঁচানোর দাবিতে আন্দোলন করেছি, ভোটের ইস্যু করেছি। এ বারের ভোটেও নদী খাল বিল বাঁচানোর ইস্যু মানুষের সামনে তুলে ধরছি।’’ তাঁর দাবি, ‘‘এর আগে গঙ্গা-পদ্মা ভাঙনের সময় লাগাতার আন্দোলন করেছি। ভাণ্ডারদহ সংস্কারের দাবিতে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা পদযাত্রাও করেছি। কিন্তু বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

বিজেপির জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলছেন, ‘‘নদী, খাল, বিল মজে গিয়েছে। কিন্তু সে সব সংস্কার না করলে আগামী দিনে বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। আমরা ভোটারদের সামনে সে কথা বলছি তো।’’ তাঁর দাবি, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে নদী সংস্কারে অনেক টাকা বরাদ্দ করেছে। আমরা ভোটারদের বলছি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মজে যাওয়া খাল, বিল, নদী সংস্কার করবে।’’  

জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত সাহা এক সময় রাজ্যের মৎস্য দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলছেন, ‘‘নদী, খাল, বিল জলাশয় বাঁচানোর জন্য আমাদের সরকার নানা প্রকল্প নিয়েছে। আমি মৎস্য দফতরের মন্ত্রী থাকাকালীন ভাণ্ডারদহ বিল সংস্কারের জন্য প্রকল্প তৈরি করেছিলাম। সেই প্রকল্পে কাজও হচ্ছে।’’ 

তবে রাজনীতির কারবারিরা মুখে যাই বলুন না কেন, বাস্তব বলছে অন্য কথা। মুর্শিদাবাদ জেলা গেজেটিয়ারের তথ্য বলছে, মহানন্দা যেখানে এসে পদ্মা বা গঙ্গায় মিশেছে, ঠিক তার পশ্চিম দিকে পদ্মা থেকে ভৈরবের উৎপত্তি। পদ্মার জল বইত ভৈরব দিয়ে। বছরভর জল থাকত ভৈরবে। সেই ভৈরব আজ জলহারা। মুর্শিদাবাদের রানিনগর ১ ও ২ ব্লক, ডোমকল, হরিহরপাড়া, নওদা ও বহরমপুরের শতাধিক গ্রাম ভৈরব ও ছোট ভৈরব নদীর দু’পাড়ে রয়েছে। সে সব এলাকায় প্রায় ৪০টি রিভার পাম্প রয়েছে। রিভার পাম্পের সাহায্যে নদীর জল তুলে চাষআবাদ যেমন হত, তেমনি নদীপথে কলকাতার সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরের তাঁতশিল্পীরা নদী পথেই তাঁদের উৎপাদিত সামগ্রী নিয়ে যাতায়াত করতেন। 

বছর দশেক আগেও নদীপথে অল্প খরচে বাঁশ যেত কলকাতায়। কিন্তু এখন তা-ও প্রায় বন্ধের মুখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভৈরবের উৎস মুখে বালির চড়া পড়েছে। ফলে বর্ষাকালে জল এলেও অন্য সময় জল আসে না। নদীর গতি রুদ্ধ হওয়ায় চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। (চলবে)

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত