বহিরাগতে বাধা বিজেপির ঘরেই
রানাঘাট এমনিতেই এ বার জটিল ভোট অঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত। নিহত তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালীকে সেখানে দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। রূপালীর সঙ্গে মহিলা ফ্যাক্টর এবং মতুয়া ফ্যাক্টর দুই জড়িয়ে রয়েছে।
BJP

প্রার্থী বাছাইয়ে যত দেরি হচ্ছে তত রানাঘাটে বিজেপি-র নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা আর ক্ষোভ বাড়ছে বলে দাবি করছেন দলেরই একাংশ। এরই মধ্যে রানাঘাটের কিছু দলীয় নেতা আবার বহিরাগত প্রার্থীর ব্যাপারে বেঁকে বসায় সমস্যা বেড়েছে বলে খবর।

রানাঘাট এমনিতেই এ বার জটিল ভোট অঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত। নিহত তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালীকে সেখানে দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। রূপালীর সঙ্গে মহিলা ফ্যাক্টর এবং মতুয়া ফ্যাক্টর দুই জড়িয়ে রয়েছে। কারণ, সত্যজিৎ ছিলেন নদিয়ায়  দলের মতুয়া মুখ। আবার বামফ্রন্ট এখানে প্রার্থী করেছে পোড় খাওয়া রাজনৈতিক নেত্রী রমা বিশ্বাসকে। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘মহিলা’ এবং ‘মতুয়া ভোট’ দুইয়ের দিকে নজর রাখতে হচ্ছে বিজেপিকে। প্রার্থী বাছাইয়ে দেরির জন্য প্রচারেও প্রতিপক্ষের থেকে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে বিজেপি। এত সমস্যার মধ্যে বাড়তি অসুবিধা হয়ে দেখা দিয়েছে ‘বহিরাগত’ প্রার্থীর বিষয়ে দলের একাংশের অনিচ্ছা।

সোমবার রানাঘাটে দলের দফতরেই বহিরাগত প্রার্থীর বদলে স্থানীয় প্রার্থীর পক্ষে সওয়াল করেন দলের একাধিক পদাধিকারি। তাদের দাবি, স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করতে হবে এই লোকসভা কেন্দ্রে। বিজেপি সূত্রের খবর, অর্চনা মজুমদার নামে কলকাতার এক চিকিৎসকে প্রার্থী করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছিল। অর্চনা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২০১৬ সালে বাগদা বিধানসভার দলীয় প্রার্থী বিভা মজুমদারের নামও ঘোরাফেরা করছে। বিভা মজুমদার মতুয়া ঠাকুরবাড়ির ঘনিষ্ঠ। কিন্তু এই দুই মহিলা নদিয়া জেলার নন। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে শোনা গিয়েছে দলের নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জগন্নাথ সরকার, গত বারের প্রার্থী সুপ্রভাত বিশ্বাসের ছেলে সুজিত বিশ্বাস, ২০১৫ সালের উপনির্বাচনে কৃষ্ণগঞ্জের প্রার্থী এবং দলের জেলা সহ সভাপতি মানবেন্দ্রনাথ রায়ের নাম। এঁদের বেশিরভাগই বহিরাগত। এ দিকে, রূপালী বিশ্বাস রানাঘাট লোকসভা এলাকারই বাসিন্দা। আবার রমা বিশ্বাস নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা এবং রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক। ফলে বিজেপির মধ্যে ক্রমশ বহিরাগত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মত জোরাল হচ্ছে।

সোমবার রানাঘাটে দলীয় দফতরেই বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার অফিস সম্পাদক রাখালরঞ্জন সাহা, জেলার সাধারন সম্পাদক মনোজ বীনেরা বলেন, “আমরা চাই এখানে প্রার্থী স্থানীয় স্তরের হোক। এবং আমাদের দলের কোনও কর্মকর্তাই হোক।” অর্চনা মজুমদারের ব্যাপারে রাখালবাবু বলেন, “অর্চনা জেলার লোক নন। আমাদের দলের কোথায় তিনি আছেন তা জানা নেই। সেই কারণেই আপত্তি।” বিজেপির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মণ্ডল কমিটির কিছু পদাধিকারীরাও এই প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত বলে এ দিন দাবি করেছেন বিজেপির নেতাদের একাংশ। 

মনোজ বীন বলেন, “দলের নিচুতলায় কর্মীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেন। তাঁরা সবাই চাইছেন স্থানীয় কেউ প্রার্থী হোক। বহিরাগত প্রার্থী আমরা কেউ চাইছি না। তবে দল যদি সিদ্ধান্ত নেয় তা হলে মানতেই হবে।”

এ ব্যাপারে বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জগন্নাথ সরকারের উক্তি, “কে কোথায় কী বলেছেন জানি না। দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলাই বিজেপির সংস্কৃতি। দলের ঠিক করা প্রার্থীর জন্যই সবাই এক সঙ্গে প্রচারে নামবে। রানাঘাট লোকসভায় আমরা জিতব।”

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

  • সাধ্বী প্রজ্ঞার এই ধরনের মন্তব্য (নাথুরাম গডসে প্রসঙ্গে) সহ্য করা উচিত নয়।

  • author
    নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী, বিহার

আপনার মত