গণনা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও আধাসেনা
গণনা কেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোনের ব্যবহারের উপরে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ফলপ্রকাশের পরে আশান্তির আশঙ্কা করে প্রতিটি থানাকেই বিশেষ ভাবে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।
police

নিরাপত্তা: কৃষ্ণনগর গণনাকেন্দ্রে। নিজস্ব চিত্র

আর দু’দিন পরে ভোটগণনা। জেলা প্রশাসনে যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। গণনা প্রক্রিয়ায় যাতে ফাঁক না-থাকে তার জন্য সোমবারও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন জেলা শাসক। সেই সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার, গণনার দিন অশান্তি রোখার প্রস্তুতি শুরু করেছ জেলা পুলিশ কর্তারা।

জেলার পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রের খবর, তিনটি বলয়ে গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তাকে সাজানো হচ্ছে। ‘ইনার মোস্ট কর্ডন’ বা গণনা হলের ঠিক বাইরের দায়িত্বে থাকবে আধাসেনা। মিডিল বা দ্বিতীয় বলয়ের দায়িত্বে থাকবে জেলা পুলিশ। আউটার বা তৃতীয় বলয়েরও দায়িত্বে থাকবে জেলা পুলিশ। প্রতিটি  গণনা কেন্দ্রের ভার থাকবে এক জন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপর। প্রতিটা কেন্দ্রের জন্য দেড় কোম্পানি আধাসেনা থাকবে। আর সেই সঙ্গে অফিসার-সহ চারশো পুলিশ থাকবে। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

গণনা কেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল ফোনের ব্যবহারের উপরে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ফলপ্রকাশের পরে আশান্তির আশঙ্কা করে প্রতিটি থানাকেই বিশেষ ভাবে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। সেই মতো প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জেলা পুলিশের দাবি। প্রতিটি থানা এলাকায় থাকবে দুটি করে আরটি মোবাইল ভ্যান, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক-সহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পিকেটিং করা হবে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সতর্ক করা হয়েছে বিএসএফকে। জেলার পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার বলছেন, “গণনা ও তার পরবর্তী সময়ের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজা হয়েছে। আমরা যে কোনও রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”

দু’টি গণনা কেন্দ্রের জন্য প্রায় এক হাজার কর্মী থাকবেন। এক জন করে অতিরিক্ত জেলা শাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এক একটি কেন্দ্রের। রানাঘাট কেন্দ্রের জন্য ১৬টি হল ও ১৩৫টি টেবিল থাকবে। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের জন্য থাকবে ১৪টি হল আর ১৫৪টি টেবিল, থাকবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সকাল আটটা থেকে শুরু হবে ভোট গণনা। জেলা শাসক সুমিত গুপ্ত বলছেন, “আমরা প্রস্তুত। আশা করছি কোনও সমস্যা হবে না।”