নির্বাচন কমিশনকে বিঁধলেন জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কান্দির হ্যালিফক্স ময়দানের সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘মুখ্য নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথায় চলছে। বিজেপি যেটা বলছে কমিশন সেটাই করছে।’’ প্রচারের শেষ দিনে কান্দির উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী গৌতম রায়ের হয়ে প্রচারে কান্দিতে হাজির ছিলেন শুভেন্দু। সেই সভায় শুভেন্দু বলেন, ‘‘কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের ষষ্ঠ দফা ভোটে অশান্তি করেছে বিজেপি। কাঁথিতেও সন্ত্রাস করেছে। এ বার সপ্তম দফা ভোটের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। ফের সন্ত্রাস করার চেষ্টা করছে তারা। বিজেপি যেটা বলছে কমিশন সেটাই করছে। না হলে এই সময় বিধানসভার উপ-নির্বাচন হয়!’’

এর আগে নওদার সভা থেকে শুক্রবার অন্তর্ঘাতের অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু। এ দিন কান্দির সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে মুখ্য নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। এ দিনের সভা শেষে বহরমপুরের বিদায়ী কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর নাম করে শুভেন্দু বলেন, “গত ১৯ জানুয়ারি যেখানে কংগ্রেসের হাইকমান্ড প্রতিনিধি পাঠিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বার্তা দিয়েছিলেন, সেখানে অধীরবাবুরা সকালে সিপিএম আর বিকেলে বিজেপি করছে। অধীরবাবু হেরে গিয়েছে, সেটা আগামী ২৩ মে প্রমাণ হবে। জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদে আমরা অনেক আগেই জিতে গিয়েছি।’’

এ দিকে শুক্রবার কান্দিতে এবং শনিবার নওদায় দলীয় প্রার্থীর হয়ে রোড-শো করেন অধীর চৌধুরী। পরে সভা করেন। নওদায় এ দিন অধীর বলেন, “তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। কেন্দ্রে যত প্রকল্প সবই কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময় করেছে। বিজেপি সেগুলির নাম পরিবর্তন করেছে। একই ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প রাজ্য এসে নাম পরিবর্তন করে চালাচ্ছে তৃণমূল সরকার।’’ তৃণমূলনেত্রীকে আক্রমণ করে অধীর বলেন, “রাজ্যের কোষাগার এখন ফাঁকা। কিন্তু তাতে কী! ভোটের প্রচার করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলে কথা, হেলিকপ্টার ছাড়া কী প্রচার করা যায়! শুধু নেত্রী নন, তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরাও হেলিকপ্টার নিয়ে ছোটাছুটি করে অর্থের ভাঁড়ার শূন্য করে ফেলেছে।” অধীরের অভিযোগ, “ওই ভাঁড়ার পূরণ করতে ঝড়কে সামনে রেখে টানা দু’মাস স্কুল ছুটি দিয়েছে। কারণ দু’মাস স্কুল ছুটি থাকলে আমাদের ঘরের শিশুদের মিডডে-মিলের খাবার দিতে হবে না।’’

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯