‘আমাকে ক্ষমা কোরো মা, বাবাকে নিয়ে ফিরতে পারলাম না’’—বলে মায়ের  হাত ধরে পায়ের কাছে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ল তোতোন। মাঝেরহাট সেতুর ভাঙা স্ল্যাব সরাতে বুধবারই বেরিয়ে এসেছে তাঁর ক্ষতবিক্ষত বাবা গৌতম মণ্ডলের দেহ। দুটো শ্বাস বন্ধ করা দিনের পরে সব আশা শেষ, বাবার দেহ নিয়ে এ দিন সকালেই সে ফিরল গ্রামের বাড়িতে।

তোতনের পাশে নির্বাক বসে রয়েছেন মা অনিতা। স্বামীর দেহটার পাশে বসে এক টানা বলে চলেছেন, ‘‘পুজোয় এসে আমাকে লাল শাড়ি কিনে দেবে বলেছিলে, আর নিজেই বাড়ি এলে লাল প্লাস্টিকে মুড়ে। কথা রাখলে না গো!’’

সকাল থেকেই লালবাগের বর্ডার পাড়ার লাল মোরামের রাস্তাটা অচেনা হয়ে গিয়েছে মানুষের ভিড়ে। দুর দুরান্ত থেকে এসে পৌঁছিয়েছে আত্বীয়স্বজন, অপেক্ষা করছে পড়শি গ্রানের মানুষ।

এ দিন সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ নিজের বাড়ি লালবাগের বর্ডার পাড়ায় ফিরল গৌতমের দেহ। মঙ্গলবার রাতেই ছেলে তোতন মন্ডল ফোন করে জানিয়েছিল বাড়িতে, তার পর থেকেই গোটা গ্রামটা যেন নিস্তব্ধ হয়ে পরেছিল। পরিবার সুত্রে খবর গত এক বছর থেকেই গ্রামের আরও তেরো জন এর সাথেই গৌতম ও তোতন এক সঙ্গে মাঝেরহাটে মেট্রোর কাজে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ মাঝের হাট সেতু ভেঙে পড়লে তার নিচে চাপা পরে মারা যান গৌতম। তারপরে বুধবার গোটাদিন কেটে গেলেও মেলেনি দেহ।  বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা নাগাদ পাওয়া যায় তাঁর থ্যাঁৎলানো দেহ। তার পর এসএসকেএম হাসপাতালে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

সকাল থেকেই বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রশাসনিক কর্তারা তারপর আর্থিক সাহায্য তুলে দেন গৌতম বাবুর স্ত্রী অনিতা মন্ডলের হাতে। মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা শাওনি সিংহরায় বলেন, ‘‘আজ সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করা আর্থিক সাহায্য পাঁচ লাখ টাকার চেক গৌতমবাবুর স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমারা সবসময় গৌতমবাবুর পরিবারের পাশে আছি।’’ বিষয়ে গৌতম বাবুর শাল্যক নিশিকান্ত মন্ডল বলেন, ‘‘জানেন ভবিনি জামাইবাবুকে এ ভবে কখনও বাড়ি আনতে হবে!’’