আগের রাত থেকেই বোঝা গিয়েছিল, আঁচ বাড়তে চলেছে। সোমবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ, মিছিল, অবস্থান হল জেলা জুড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি হাতে নিয়ে রেল অবরোধ করা হল চাকদহে। 

সিবিআই হানার প্রতিবাদে দুপুর দুটো নাগাদ কৃষ্ণনগর পুরসভার সামনে থেকে বিশাল মিছিল বের করা হয়। পুরোভাগে ছিলেন তৃণমূলের জেলা নেতারা। সদর মোড় হয়ে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয় সেই মিছিল। তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুণ্ডু, কৃষ্ণনগর পুরসভার বিদায়ী পুরপ্রধান অসীম সাহা প্রমুখ হাজির ছিলেন। বিক্ষোভ মিছিল বেরোয় চাপড়া, নাকাশিপাড়া-সহ সমস্ত ব্লকেই। 

দুপুরে চাকদহ স্টেশনে হইহই করে রেললাইনে নেমে পড়েন তৃণমূল কর্মীরা। প্রায় আধ ঘণ্টা রেল অবরোধ করা হয়। ভোগান্তির মুখে পড়েন যাত্রীরা। পরে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী বলেন, “চাকদহ স্টেশনে ওই অবরোধের জেরে কোনও ট্রেন বাতিল হয়নি। কয়েকটি ট্রেন অনিয়মিত ভাবে চলাচল করেছে।’’ অবরোধ ওঠার খানিক পরেই অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর ৩টে নাগাদ শিয়ালদহ-রানাঘাট শাখার চাকদহ স্টেশনে যাঁরা অবরোধ শুরু করেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জন মহিলাও ছিলেন। ‘দাঙ্গাবাজের সরকার, আর নেই দরকার’—লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা ট্রেনের পথ আটকান। নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু স্লোগান উঠতে থাকে। ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  পরে রেলপুলিশ এবং আরপিএফ এসে তৃণমূল কর্মীদের বুঝিয়ে সুজিয়ে অবরোধ তোলে।

এই অবরোধের সমস্যা পড়েন অনেক যাত্রীই। চাকদহের বালিয়ার বাসিন্দা কার্তিক মণ্ডল বলেন, “আমার এক আত্মীয় কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁকে দেখতে যাচ্ছিলাম। ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকক্ষণ দেরি হয়ে যায়। কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না।” আর এক যাত্রী স্মৃতিকণা দত্ত বলেন, “এভাবে হঠাৎ ট্রেন বন্ধ করলে মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। অবরোধ করার আগে এটা বোঝা উচিত।’’

বিজেপির দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি জগন্নাথ সরকারের কটাক্ষ, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গণতন্ত্র রক্ষা করেন। এটা সুপ্রিম কোর্টের বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন, তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা জেলে যাবেন। তাই নাটক শুরু করেছেন। আর, দিদিকে রক্ষা করতে ভাইয়েরা রেল অবরোধ করছে।”   

তবে জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তের দাবি, “সিবিআইকে দিয়ে বিজেপি সরকার যা করাচ্ছে তা শুধু তৃণমূলের উপরে নয়, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোর উপরেই আঘাত। সেই কাঠামো বজার রাখার জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা পথে নেমেছি।”