টানা সাত দিন ধরে বৃষ্টির পরে মঙ্গলবার ছিল রোদ ঝলমলে আকাশ। এ দিন বৃষ্টি না হলেও পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের লাগাতার বৃষ্টির প্রভাব অবশ্য টের পেয়েছে মুর্শিদাবাদের নদী-নালাগুলি। মঙ্গলবার গঙ্গা ও ব্রাহ্মণী নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ভাগীরথী ও দ্বারকা নদীর জল বিপদসীমা প্রায় ছুঁইছুঁই। তবে জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় ভয় অনেকটা কমেছে। 

জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলছেন, ‘‘সেচ দফতর থেকে জেনেছি বুধবার থেকে নদীর জল কমতে পারে। ত্রাণ শিবির যেমন করা হয়েছে, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত নদী বাঁধ সংস্কারের কাজও  সমান তালে চলছে।’’ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল বলছেন, ‘‘এ দিন বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা ভাল হয়েছে।’’

সেচ দফতর সূত্রের খবর ফরাক্কা, লালগোলা, শমসেরগঞ্জ, সুতি ২, ভগবানগোলা ১, রানিনগর ২ ও জলঙ্গি ব্লকের ২৬টি গ্রামে বিভিন্ন নদীর পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরাক্কা ব্লকের বাঁশলই, পাগলা নদীতে বৃষ্টির জলের জেরে ভাগীরথীতে মঙ্গলবার জলের স্তর প্রায় পাঁচ ফুট বেড়েছে। ছোট নদী থেকে ভাগীরথীতে প্রচুর কচুরিপানা প্রবেশ করেছে। সেই কচুরিপানার কারণে যন্ত্রচালিত নৌকা (ভুটভুটি) চালাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন মাঝিরা। সাটুই ফেরিঘাটে সকাল ৭টা থেকে প্রায় দু’ঘণ্টা নৌকা চলাচল বন্ধ ছিল। যার জেরে মঙ্গলবার বেলডাঙার হাটে পৌঁছতে পারেননি অনেকেই। ভাগীরথীতে জলস্তর বৃদ্ধির জেরে সাটুই ফেরিঘাটে ফরাস ভেসে যায়। নৌকায় ওঠার পথ না পেয়ে যাত্রীরা সমস্যায় পড়েন। 

কান্দি, খড়গ্রাম ও ভরতপুর ১ ও ২ ব্লকের আংশিক এলাকায় কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় খড়গ্রামে উপর যাদবপুরে ব্রাহ্মণী নদীর বাঁধ ভেঙে উপর যাদবপুর, নিচু যাদবপুর, ভুসকুল ও টিটিডাঙায় রাস্তায় জল জমেছে। যার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

অন্য দিকে ভরতপুর ২ ব্লকের স্বরমস্তিপুর ও রমনা বরখরি গ্রামের যাতায়াতের রাস্তায় বাবলা নদী উপচে জল রাস্তায় জমেছে। পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে জলভাসি হয়েছে ভগবানগোলা ২ ব্লকের নির্মলচরও। জলঙ্গির চর পরাশপুর, টলটলি, চর উদয়নগরখণ্ড, সরকারপাড়া, দুর্লভেরপাড়ার চর কাকমারিও জলমগ্ন। চর কাকমারির স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও শিশুশিক্ষাকেন্দ্র ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।