হেঁশেলে নয়, এখন পেঁয়াজের দেখা মিলছে মিমেই। বেহাল অর্থনীতি আর ফড়ে রাজত্বের সাপ-লুডো খেলায় সোনালি ফসলটির দাম বর্তমানে এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে কেউ কেউ হিরে-মানিকের জড়োয়া সেটের বাক্সে ঢুকিয়ে রাখছেন দু’চারখানা পেঁয়াজ। আশি-নব্বই টাকা কিলো দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ রান্নায় খরচ করার সাহস না দেখিয়ে কেউ কেউ আবার তা সিন্দুকে তুলে রাখছেন যত্ন করে। কোথাও আবার ওয়ার্ল্ড কাপের ট্রফির মাথায় পেঁয়াজ।

গল্প হলেও সত্যি!

কয়েক দিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল একটি ভিডিয়ো যেখানে মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরের এক কৃষক কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছিলেন পেঁয়াজের চাষ করে তিনি শ্রমিকদের মজুরি মেটাতে পারছেন না। উপরন্তু, সংসার চালাবেন কী করে? তিনি জানিয়েছিলেন বাজারে আশি টাকা কিলোদরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ চাষি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মাত্র আট টাকা কিলো দরে। এই ভিডিয়ো নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে শেয়ার করেন কংগ্রেস নেতা সুনীল আহিরে। তাতে অবশ্য ওই কৃষকের অর্থনৈতিক সমস্যার কোনও সুরাহা হয়েছিল কিনা, তা জানা যায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে পাতে দেওয়ার মতো জিনিসের অভাব নেই। এই টেক স্যাভি সময়ে যে কোনও বিষয় নিয়ে নেটিজেনদের মতামত রয়েছে। ঘটনা ঘটার সিকি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ছেড়ে যায় রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে খেলা, বিনোদন সংক্রান্ত যাবতীয় খবরে। সেলিব্রিটির ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের পোশাক পছন্দ না হলে কিংবা অর্থমন্ত্রীর গাড়িশিল্পের মন্দায় ওলা-উবার চড়ার মতো যুক্তির বিরোধিতার তৈরি হয়ে যায় বুদ্ধিদীপ্ত সব রসিকতা। এই সামাজিক ‘গণদেবতা’র নিদান থেকে বাদ পড়েনি পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির দুঃস্বপ্নও। সাম্প্রতিক সময়ে  সোশ্যাল মিডিয়া মেতে রয়েছে পেঁয়াজের দাম সংক্রান্ত নানা মিম-এ। ফেসবুক-টুইটার বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করলেই দেখা মিলছে তার। খোসা ছাড়িয়ে পরতে পরতে বেরিয়ে আসা শস্যটিকে নিয়ে এক সময়ে কাব্য করতে ছাড়েননি গুন্টার গ্রাসও। ‘পিলিং দ্য ওনিয়ন’ তো কোন ছাড়— পেঁয়াজ চরিত্র নিয়ে ইত্যাবসরে তৈরি হয়েছে মুরগিদের দোল খাওয়ার শর্টফিল্মও। সম্প্রতি একটি ভিডিয়োও দেখা গিয়েছে, তিন চারটি মুরগি ঘনসন্নিবিষ্ট হয়ে এক মুরগি-চরিত্র দোলনায় উঠে মনের সুখে দুলছে। নীচে ক্যাপশন— পেঁয়াজের দাম বাড়ায় নির্ভয়ে দোল খাচ্ছে মুরগিরাও।

নির্ভেজাল পেঁয়াজি যাকে বলে আর কী!