মাত্র ১৫ টাকা চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ। চুরির সন্দেহ গিয়ে পড়ে ১১ বছরের এক বালকের ওপর। এ নিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে শমসেরগঞ্জের অন্তর্দীপা গ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী। এক ব্যক্তি মারধরের ঘটনার ভিডিও মোবাইলে তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে দ্রুত তা ভাইরাল হয়। ঘটনার খবর পৌঁছয় শমসেরগঞ্জ থানায়। বৃহস্পতিবার পুলিশ আক্রান্ত নাবালকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর অভিভাবকদের থানায় নিয়ে আসে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সন্ধ্যায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম নাজমুল শেখ, হামসেদ শেখ ও সফিকুল আলম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালকের বাড়ি অন্তর্দীপা গ্রামে। গ্রামেরই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে সে। তার বাবা আনোয়ার শেখ ভ্যান চালান। তিনি জানান, এদিন সকালে তাঁর ছেলে বাড়ির গাছের সজনে শাক নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে গিয়েছিল। শাক বিক্রি করে ফেরার পথে সে একটি দোকানের সামনে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। তাঁর অভিযোগ, খালি গায়ে ওই নাবালককে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চোর সন্দেহে পাকড়াও করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তল্লাশি চালিয়ে ওই বালকের পকেট থেকে পাওয়া যায় ১৫ টাকা। আনোয়ার বলেন, ‘‘ওই টাকা পেতেই ছেলেকে লাঠি দিয়ে মারধর করতে শুরু করে ওরা। তাদের সঙ্গেই যোগ দেন আশপাশের আরও কয়েকজন।’’

যদিও ওই বাজারের ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, প্রায়ই বিভিন্ন দোকান থেকে টাকা চুরি হচ্ছে। দু’দিন আগেও একটি দোকান থেকে ৫০০ টাকা চুরি গিয়েছিল।’’ আনোয়ার জানান, তাঁর ছেলেকে কেউ চুরি করতে দেখিনি। তার কাছে শাক বিক্রির টাকা ছিল। পকেট হাতড়ে সেই টাকা পেতেই মারধর শুরু হয়। মারধরের সময় ওই জায়গায় ভিড় থেকে কেউ মোবাইলে ভিডিও তুলেছিলেন। সেই ছবি কিছুক্ষণের মধ্যে হোয়াটসআপ ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তা গিয়ে পৌঁছেছিল শমসেরগঞ্জ থানার পুলিশের কাছেও। ওই বালক এবং তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গোটা ঘটনা জানতে পারে পুলিশ। থানার ওসি অমিত ভকত জানান, ‘‘চুরি করেছে এই সন্দেহে এ ভাবে একটি বাচ্চা ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। সেটা জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিই। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আমরা গ্রেফতার করেছি।’’