সাত দিন থেকে জ্বর-কাশিতে ভুগছেন নওদার পাটিকাবাড়ির রেহেন্নারা বিবি। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসায় সারেনি। তাই বুধবারে ভোরে ছেলে আনিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন বহির্বিভাগে দেখানোর জন্য। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিটও কাটার পরে গিয়ে দেখেন বহির্বিভাগে কোনও চিকিৎসক নেই। শেষ পর্যন্ত ডাক্তার দেখাতে না পেরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে হতাশ হয়ে ফেরেন রেহেন্নারা। 

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এ দিন দেশজুড়ে কর্মবিরতির ডাক দেয়। সেই কর্মবিরতিতে শামিল হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও। ফলে রেহেন্নারা শুধু নয়, সলুয়াডাঙার মাঞ্জারুলও  হকও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে ডাক্তারের দেখা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন। তিনি অবশ্য এসেছিলেন বুকে ব্যথা ও কাশি নিয়ে ডাক্তার দেখাতে। মাঞ্জারুল বলছেন, ‘‘আচমকা ডাক্তারেরা যদি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে দেন, তাহলে আমরা যাব কোথায়! চেম্বারে টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখানোর ক্ষমতা থাকলে হাসপাতালে কেন এসেছি?’’

এ দিন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েন কয়েক হাজার মানুষ। জেলা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহরমপুরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে হয়রান হতে হয়েছে তাঁদের।

কি জন্য এই কর্মবিরতি? লোকসভায় পাশ হয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। সেই বিলের প্রতিবাদে দেশজুড়ে জরুরি নয় এমন চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছিল চিকিৎসকদের সংগঠন, আইএমএ।

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধিকাংশ বহির্বিভাগ বন্ধ ছিল। এ দিন মাত্র তিন ঘণ্টা শিশু ও সার্জারি বিভাগের বহির্বিভাগ খোলা ছিল। যার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার রোগী হয়রান হন। যদিও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি দেবদাস সাহা বলেন, ‘‘চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি করায় বহির্বিভাগে তার প্রভাব পড়েছে। তবে অন্য পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল।’’ 

আইএমএ-এর বহরমপুর শাখার সম্পাদক রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ওই বিলে ক্ষতিকারক বিভিন্ন দিক রয়েছে। তার প্রতিবাদে দেশজুড়ে চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ রাখার ডাক দেয়। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-সহ জেলা জুড়ে চিকিৎসকেরা এ দিন প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। তবে অল্প সময়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা হওয়ায় সব রোগী বিষয়টি জানতে না পারেননি। ফলে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা কিন্তু স্বাভাবিক ছিল।’’