Noise pollution continues still after election - Anandabazar
  • কৌশিক সাহা

আওয়াজখানা দিচ্ছে হানা বাজার থেকে থানা

Mike
সভায়-সভায় জেরবার

Advertisement

আওয়াজটা আসছিল লিচুতলার দিক থেকে— অপহরণের জমজমাট বর্ণনায় ‘দাদা’র (অপহৃত কাউন্সিলর দেবজ্যোতি রায়), সাড়ে পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার রহস্য লালমোহন গাঙ্গুলির সিরিজ কিঞ্চিৎ লজ্জা পাবে!

রিকশা খানিক এগোতেই,  বিশ্রামতলার মাইক গাঁক করে উঠল— কোনও রহস্য নেই, সোজা সাপটা দিদির উন্নয়নের ফিরিস্তির জোয়ারে শুখা বর্ষাতেও যেন হাঁটু জল।

শহরের নাম কান্দি। মাস খানেক যাবত যে জনপদ, সন্ধে হলেই আতঙ্কে ভোগে এ বার কে!

কে মানে, কোন দল, এবং সেই সাঁঝে তাদের তির কোন ইস্যুতে কোন দিকে চলবে। কখনও তা একমুখী, লক্ষ্য শাসক দল। কখনও এক্কেবারে উল্টো ‘জোটের কারবারিরা’।

মানুষ শুনছেন, কারণ না শুনে উপায় নেই। তবে গিলছেন না। জেমো বাজারের এক মহিলা বলছেন, ‘‘এই ভ্যাপসা গরমে জানলা-দরজা বন্ধ। ঘরের ঘুলঘুলিতে কাপড় গুঁজেছি। তা-ও কান ঝালাপালা হয়ে য়াচ্ছে।’’ ছেলেপুলেদের বলছেন, সন্ধের আগেই পড়াশোনাটা সেরে রাখতে, আর বাড়িতে রোগী থাকলে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে রাখতে পারলেই স্বস্তি!

সভায়-সভায় জেরবার কান্দির এখন বাস্তবিকই নাভিশ্বাস। কখনও, ন’মাস আগের  কাউন্সিলর অপহরণ  কান্ডের বিস্তারিত বর্ণনা। পুরসভার অচলাবস্থার জন্য তৃণূলের দিকে কংগ্রেস ও সিপিএমের জোড়া আঙুল। কখনও বা উল্টোটা। তৃণমূলের মিছিলে কর্মীদের পিস্তল উঁচিয়ে নাচানাচির প্রতিবাদ।

 শুরুটা হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। তার জের এখনও চলছে। সেই ট্রাডিশন ভোট উজিয়ে আজও চলেছে।

কখনও অপহরণের নানাবিধ ‘অ্যাঙ্গেল’, কাউন্সিলরদের ভয় দেখানোর ঘটনা তো কখনও পাল্টা ‘ছিঁচকাদুনির’ ব্যাঙ্গ।

সবিস্তারে দেখতে ক্লিক করুন

সম্প্রতি যোগ হয়েছে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পথসভা। কিন্তু এত পথসভা কেন?

কংগ্রেস ও তৃণমূলের জনা কয়েক মাঝারি মাপের নেতা জানাচ্ছেন, “সস্তার প্রচার হিসাবে পথসভাকেই ধরা হয়। বড়ধরণের সভা করতে মঞ্চ, লাইট, মাইকের অনেক খরচ। আবার সভামঞ্চ ভরাতে বাইরে থেকে লোক আনতে গাড়ির ব্যবস্থা করতে হয়। তাই এখন এটাই চলবে।’’

আর তৃণমূল বলছে, ‘‘আমাদের সঙ্গে মানুষ রয়েছে, ওঁরাই আমাদের কথা শুনছেন। তাই ঘনঘন সভা।’’

আর কান্দির মানুষ কী বলছেন— জেমো এলাকার এক অভিবাবক বলছেন, ‘‘আমরা আর কী বলব, ভাবছি, ক’দিন শহর ছেড়ে পালাতে পারলে বাল হত!’’ বিশ্রামতলার গা ঘেঁষেই রোজ পথসভা। সেখানেই থাকেন এক চিকিৎসক। বলছেন, ‘‘সন্ধ্যায় চেম্বার করাই ছেড়ে দিয়েছি। রোগী কী বলছে শুনতেই পাচ্ছি না। পাছে ভুল শুনে ভুল ওষুধ দিয়ে দিই। তাই আপাতত পথসভা থাকলে চেম্বার করছি না!’’

পুলিশ বলছে, চলতি মাসে গত বিশ দিনে সব মিলিয়ে ১৭টি পথসভা হয়েছে শহরে। হয়েছে, সাতটি মিছিল। তাদের মধ্যে বাম ও কংগ্রেস জোটের সাতটি। তৃণমূলে পুরসভা সংক্রান্ত তিনটি আর ২১জুলাই সংক্রান্ত সাতটি।

কান্দির এসডিপিও ইন্দ্রজিৎ সরকার বলেন, “রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির সভার অনুমতি দিয়ে থাকি ঠিকই। তবে মাইকের অনুমতি দেন মহকুমাশাসক। ওঁকে জিজ্ঞেস করুন!’’ কান্দির ভারপ্রাপ্ত মহকুমাশাসক অনন্যা জানা বলছেন, ‘‘নতুন তো বলতে পারব না কে অনুমতি নিয়েছে আর কে নেয়নি।’’

তবে, এক বস্ত্র ব্যবসায়ী বলেন, “কী বলব বলুন তো, গত বার পুজোর সময়ে শুরু হয়েছে সভা, এ বার ইদেও চলছে। আমাদের অসুবিধা তো হয়ই আর বাড়ির পড়ুয়াদের যে কী ক্ষতি হচ্ছে সেটা নেতাদের কে বোঝাবে!’’ কান্দি মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তারকেশ্বর প্রামানিক বলেন, “ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে এমন নয়। কিন্তু ব্যবসায়ী প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামবে! তাহলেও তো ফের শহর অশান্ত হবে। সেটা আমরা চাইনা। তাই চুপ করে আছি।”

তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থপ্রতিম সরকার। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের একটা সুস্থ পুরবোর্ডকে ভেঙে দিয়ে তৃণমূল শহরের রাস্তার নামল আর তার প্রতিবাদ করব না!’’

জেলা তৃণমূলের কার্যকারী সভাপতি উজ্জ্বল মন্ডল যা শুনে বলছেন, “পুরসভাকে কংগ্রেস তাদের নিজেদের সম্পতি ভেবে নিয়েছিল তো তাই গায়ে লাগছে। যত্তসব নাকি কান্না!’’

নাকি নয়, আসলে কাঁদছেন কান্দির বাসিন্দারা। তাঁরা আর যাবেন কোথায়? 

Advertisement

আরও পড়ুন
বাছাই খবর
আরও পড়ুন