• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ঝাঁঝে উধাও পেঁয়াজ, পাতে মুলো

Food
স্যালাডে নেই পেঁয়াজ। নিজস্ব চিত্র

স্টিলের থালার উপরে বিছানো সদ্য ধোয়া কলাপাতা। পাতে বাটি উপুড় করে ভাত সাজানো। চারপাশে একটা ভাজা, খানিকটা সব্জি, ছোট একবাটি ডাল। আর লেবু, লঙ্কা ও পেঁয়াজ!

হোটেলের পাতে অনিবার্য ভাবে এই তিনটি জিনিস থাকেই। রাস্তার ধারের হোটেলগুলোতে টাকা বাঁচাতে কত লোক যে পরে আর সব্জি না নিয়ে স্রেফ ট্যালট্যালে ডাল, ভাত আর লেবু-লঙ্কা-পেঁয়াজে খাওয়া শেষ করেন, তার ইয়ত্তা নেই।

কিন্তু পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বদলে গিয়েছে হোটেলের পাতও। কোনও হোটেলে পেঁয়াজের জায়গা দখল করেছে শসা, কোথাও আবার সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে মূলোতেই!

বেজার হয়ে কেউ যদি চেয়ে বসছেন, ‘‘কী হে, পেঁয়াজ কই!’’ এক গাল হেসে হোটেল কর্মীর জবাব, ‘‘পেঁয়াজের ঝাঁঝ আর সহ্য করা যাচ্ছে না দাদা। মুলোতেই খুশি থাকুন!’’

কিছু দিন আগে পর্যন্তও ছবিটা ছিল অন্য রকম। দুপুরের ভাত তো বটেই, রাতে গরম তরকা-রুটির সঙ্গে হোটেলের কর্মীরাই যেচে জানতে চাইতেন, ‘‘আর একটা লঙ্কা-পেঁয়াজ দিই?’’

কিন্ত হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম চড়ে যাওয়ায় নদিয়া-মুর্শিদাবাদের বহু হোটেল, ধাবায় পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাঁচা লঙ্কা আর নুন আছে বটে! তার পাশে ডুমো করে কেটে রাখা পেঁয়াজ নয়, মুলো।

কিন্তু দুধের স্বাদ কি আর ঘোলে মেটে! নবদ্বীপ রেলগেট থেকে গৌরাঙ্গ সেতুর দিকে যেতে ছোট হোটেল পাঁচু হালদারের। ভিড়ও ভালই হয় সেখানে। পাঁচু বলছেন, ‘‘পঞ্চান্ন বা ষাট টাকা কেজির পেঁয়াজ বিনা পয়সায় কী করে খাওয়াই, বলুন তো? আগে বড় পেঁয়াজ অর্ধেক করে দিতাম। লোকে একটার জায়গায় দুটো টুকরো নিলেও গায়ে লাগত না। কিন্তু যে ভাবে দাম বেড়েছে তাতে এখন একটাকে চার টুকরো করে দিচ্ছি। কিন্তু ক’দিন দিতে পারব জানি না।’’

তেহট্টের নাজিরপুর, করিমপুর কিংবা মহিষবাথান এলাকায় বহু হোটেলে পাতে এখন পেঁয়াজ অমিল। করিমপুরের এক হোটেল ব্যবসায়ী কাশীনাথ বিশ্বাস জানান, আগে হোটেলের জন্য দৈনিক দশ কেজি পেঁয়াজ কিনতে হত। মাস খানেক থেকে সাত কেজি কেনা হচ্ছে। মাছ-মাংস-ডিমে তো আর পেঁয়াজের পরিমাণ কমানো যাচ্ছে না। কিন্তু ভাতের পাতে পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে না। ক্রেতা চাইলে বড়জোর এক টুকরো।

করিমপুরের এক রেস্তোরাঁ মালিক প্রেমজিৎ বিশ্বাসের কথায়, “স্যালাডে পেঁয়াজের পরিমাণ কমিয়ে শসা বাড়ানো হয়েছে।’’ চপের দোকানে পেঁয়াজ ও বেসনে ভাজা ‘পেঁয়াজি’ তৈরিও কমিয়ে দিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। নাটনার এক চপ বিক্রেতা জানাচ্ছেন, আগে তিন কেজি পেঁয়াজের পেঁয়াজি বিক্রি হত। পরিমাণ কমিয়ে এখন কোনও দিন এক কেজি, কোনও দিন আবার বন্ধই থাকছে।

বহরমপুরের গির্জার মোড়ের হোটেলে রুটি ও ডিমের কারির ‘অর্ডার’ দিয়েছিলেন ডোমকলের সাজ্জাদ হোসেন। কিন্তু পাতে লাল মুলো দেখে তিনি বেশ অবাক হয়েছিলেন। ‘দাদা একটু পেঁয়াজ দেবেন’ বলতেই হোটেল কর্মী নুরানি মিঞা বলেছেন, ‘‘দাদা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আপাতত মুলোতেই খুশি থাকুন।’’

কিন্তু ক্ষুব্ধ পেঁয়াজপ্রেমীরা জানাচ্ছেন, খুশি বললেই তো আর খুশি হওয়া যায় না। পেঁয়াজ আর মুলো কি এক হল? জল আর জলপাই কি একই জিনিস? তাঁদের আর্তি, ‘‘গা থেকে কিছুটা দাম ঝরিয়ে ফেলে, ফের পাতে ফিরে আসুক ঝাঁঝ!’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন