• সৌমিত্র সিকদার ও সুস্মিত হালদার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দিনভর ব্যস্ত শাসক দল

নির্বিঘ্নে ভোট দেখল কুপার্স

Shankar Singh
মেজাজে শঙ্কর-বাণী। নিজস্ব চিত্র

নির্বিঘ্নেই ভোট দেখল কুপার্স। ১ নম্বর ওয়ার্ডে বুথের ভিতরে প্রার্থীদের সামান্য হাতাহাতি ছাড়া সারাটা দিন কাটল শান্তিপূর্ণ ভাবে। সকাল থেকে কার্যত বিরোধী শূন্য কুপার্স ক্যাম্পে দাপিয়ে বেড়ালেন শাসক দলের নেতা ও কর্মীরা। বুথে বুথে দেখা মিলল বহিরাগতদেরও। দুপুরে কুপার্স থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রানাঘাট বেগোপাড়া গির্জার আমতলায় বসে অনুগামীদের নিয়ে বৈঠকী মেজাজে দেখা গেল তৃণমূলের প্রধান সেনাপতি শঙ্কর সিংহকে।

শুরু থেকে শঙ্কর সিংহের তালুক বলে পরিচিত নোটিফায়ে়ড এলাকা। বাম আমলেও তিন বার নির্বাচন হয়েছে। ৩ বারই শঙ্কর সিংহের নেতৃত্বে জয়ী হয় কংগ্রেস। গত নির্বাচনে তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া প্রায় সমস্ত নেতৃত্ব হাজির হয়েছিলেন শঙ্কর সিংহকে পরাজিত করতে। গণনার শেষে দেখা গিয়েছিল এই পরিবর্তনের পরেও কুপার্সের মানুষ আস্থা রেখেছিলেন শঙ্কর সিংহের উপরে। ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থীরা।

সম্প্রতি শঙ্কর সিংহ তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দলীয় নেত্রী তাঁর উপর কুপার্স ক্যাম্পের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রথম থেকেই তাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শঙ্করবাবু। এ দিন তিনি বলেন, “সিপিএমের ভিত্তি নেই। আর বিজেপি জানে, তারা জিতবে না। ২০১১ সালের পরে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেই উন্নয়নকে দেখেই মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবেন।’’

বিরোধীরা যে ছাপ্পা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে? শঙ্করবাবু বলেন, “অস্তিত্ব বিপন্ন বুঝতে পেরে মুখ রক্ষা করতে এ সব কথা বলছে ওরা।” গোটা শহর ঘুরে দু’একটি জায়গা ছাড়া বিজেপি বা সিপিএমের কোনও শিবির দেখা গেল না। সে ভাবে দেখা মিলল না ওই দুই দলের নেতা কর্মীদেরও। কুপার্সে প্রচারে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলে গিয়েছিলেন, ‘‘গ্যালারিতে বসে খেলা দেখব না। ময়দানে লড়াই  হবে।’’

যদিও বিজেপি নদিয়া দক্ষিণ জেলার সভাপতি জগন্নাথ সরকারের দাবি, ‘‘সন্ত্রাস করে, হুমকি দিয়ে পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দিয়ে ভোট করল তৃণমূল। পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়।” সিপিএমের রানাঘাট পূর্ব এরিয়া কমিটির সদস্য অশোক চক্রবর্তী বলেন, “৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া সুষ্ঠু ভাবে কোথাও ভোট হয়নি। ছাপ্পা, এবং গায়ের জোরে ভোট হয়েছে। পুলিশের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি।”

৪, ৫, ১১ ও ১২ ওয়ার্ডে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ উঠেছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএম ঘোরানো নিয়ে এক ভোটারের সঙ্গে ওই ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী সুপ্রিয়া দে-র সঙ্গে গণ্ডগোল বাধে। অভিযোগ, সুপ্রিয়া তাঁকে চড় মারেন। তৃণমূল প্রার্থী অশোক সরকারের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন সুপ্রিয়াদেবী।

কুপার্স নোটিফায়েড এলাকায়  এ দিন ভোট পড়েছে ৯২.৮৬ শতাংশ। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন