চালু হওয়ার সাড়ে তিন বছরের মাথায় রঘুনাথগঞ্জে  মিঞাপুরে রেলের উড়ালপুলের কংক্রিটের ঢালাই ভেঙে গিয়ে বেরিয়ে পড়ল লোহার রডের  কঙ্কালসার চেহারা। কিন্তু সারানোর দায় কার, রেলের না রাজ্যের— চাপানউতোরে ঝুলে রইল সেতুর সংস্কার। কয়েক মিটার এলাকা জুড়ে একাধিক খানাখন্দে ভরা রেল সেতুর এই বিপজ্জনক অবস্থা শুক্রবার নিজের চোখে ঘুরে দেখলেন রঘুনাথগঞ্জ ১ বিডিও মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘এটা রেলের উড়ালপুল। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।’’

অন্য দিকে রেলের মালদহ  ডিভিসনের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সুখবীর সিংহ স্পষ্ট বলছেন, “মিঞাপুরে রেল উড়ালপুলের যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত সেটা সংযোগকারী সড়কের অংশ। সেটা রাজ্য সরকারের দেখার কথা।” রেল সেতুর এই বিপজ্জনক ফাটলের কারণে দু’সপ্তাহে অন্তত আটটি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১ জন। ‘জঙ্গিপুর রোড’ স্টেশন  লাগোয়া মিঞাপুরে ১৩.৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেল উড়ালপুলটি  ৫৩৮.৩২   মিটার দীর্ঘ ও ৭.৫০ মিটার প্রস্থ । এই সেতুর উপর ২৮ মিটার  ‘আর ও বি’  তৈরি করে রেলমন্ত্রক ২০১১ সালে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর সংযোগ সড়ক তৈরি করে রাজ্য সরকার তা চালু করেন ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর।

রঘুনাথগঞ্জে প্রধান প্রবেশ পথ এই রেল সেতুটি। ফলে মাত্রাতিরিক্ত যান চলাচলের চাপ রয়েছে। কয়েকশো পাথর ও বালি বোঝাই লরি চলে প্রতি দিন এই সেতুর উপর দিয়ে। বৃষ্টির সময় উড়ালপুলের উপর জল জমে থাকে। কারণ জল বেরোবার কোনও নালাই নেই সেখানে। ফলে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বেহাল দশার মধ্যে পড়ল মিঞাপুরের রেল সেতুটি। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরেও একই ভাবে বেহাল হয়ে পড়েছিল সেতুটি।