ওঁরা ভর্তি হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা জমা দিয়ে। তাঁদের দাবি, তখন তাঁদের বলা হয়েছিল, এই কোর্স স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই করা হবে। কোর্স শুরুর পর বেশ কয়েক মাস ক্লাসও করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসে। মার্কশিট ও সংশাপত্রে পাওয়ার পর দেখেন সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কর্তার সই। সই করেছেন জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল মেডিক্যাল  কলেজ ও হাসপাতালের (জেএনএম) অধ্যক্ষ। স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এমন কোনও কোর্স তারা চালায় না। তার জেরে বুধবার প্যারামেডিক্যাল ও অ্যালায়েড হেল্থ সায়েন্স-এর শতাধিক পড়ুয়া জেএনএমে এসে বিক্ষোভ দেখান। 

তাঁরা বিভাগের সামনে পোস্টার হাতে নিয়ে স্লোগান দেন। পরে কর্তাদের আশ্বাসে ওঠে বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের তরফে আতাব মণ্ডল বলছেন, ‘‘ কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে দিন কয়েকের মধ্যে কোনও ফল না-পেলে আবার আন্দোলন শুরু হবে।’’ পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে। 

২০১৬ সালের শেষের দিকে হেল্থ কেয়ার সহকারি, ওটি টেকনিশিয়ান, ইসিজি এবং যোগা ও ন্যাচারোপ্যাথি কোর্সে প্রায় দেড়শো জন ভর্তি হন। তাঁরা স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ড্রাফ্ট জমা দিয়ে ভর্তি হন। প্রথমে ক্লাস হত বিশ্ববিদ্যালয়েই। পড়ুয়ারা ২০১৮ সালের শেষের দিকে মার্কশিট পান। কিছু দিন আগে মেলে সংশাপত্র। বেথুয়াডহরির বাসিন্দা মৌসুমী দাস জানাচ্ছেন, ‘‘আমাদের বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ই এই কোর্স চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ই যদি এই কোর্স চালায়, তাহলে মার্কশিট ও সংশাপত্রে সই থাকবে সেখানকার কোনও কর্তার। কিন্তু সেটা নেই। সব নথিতে সই রয়েছে জেএনএমের অধ্যক্ষের।’’ 

পড়ুয়ারা স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে সেখান থেকে জানানো হয়, এই সব কোর্সে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ। সে ক্ষেত্রে কোর্সের মার্কশিট বা সংশাপত্র বিশ্ববিদ্যালয় দেবে না। এ ব্যাপারে জেএনএমের অধ্যক্ষ কেশব মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘আমি থাকাকালীন ওই সব কোর্স চালু হয়নি। ফলে এ নিয়ে আমি কিছু বলব না।’’ কিন্তু মার্কশিটে তো আপনার সই রয়েছে। এ বিষয়ে কেশববাবু কোনও মন্তব্য করতে চাননি।