শিল্পীর মর্যাদা ও স্বাধীনতাহানির অভিযোগে প্রতিবাদ সভা, আবার সেই শিল্পীর বিরুদ্ধেই মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে পাল্টা মিছিল—বৃহস্পতিবার দু’টি ঘটনারই সাক্ষী রইল কৃষ্ণনগর। তীব্র হল সাংস্কৃতিক বিতর্কের রাজনীতিকরণের জল্পনাও।আপাত ভাবে গোটা বিষয়টি সংস্কৃতিকেন্দ্রিক। গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীকে আয়োজকেরা আটকে রেখে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। শিল্পীর অধিকার খর্ব হয়েছে দাবি করে পথে নামার সিদ্ধান্ত নেন নাগরিকদের একাংশ। তাঁদের অধিকাংশই বামঘেঁষা বা বামমনস্ক শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখক, কবি, শিক্ষক। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় হাম প্রভাবিত ‘পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘ’। 

এতেই জল্পনা শুরু হয়, ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে সিপিএম। কারণ, যাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই কৃষ্ণনগর সংস্কৃতিক মঞ্চের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক তৃণমূল পরিচালিত কৃষ্ণনগর পুরসভা এবং সেখানকার বিদায়ী পুরপ্রধান অসীম সাহা। এই চর্চা আরও জোরালো হয় কৃষ্ণনগর সংস্কৃতিক মঞ্চ পাল্টা ইমনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করায়। অনেকেই বলতে থাকেন, সিপিএম পথে নামছে বলেই তৃণমূল আর চুপ করে থাকতে পারছে না। সিপিএমের দাবি, ভুল প্রমাণ করতে তৃণমূল পিছন থেকে সাংস্কৃতিক মঞ্চকে পথে নামাচ্ছে। সামনে অবশ্য দু’পক্ষই দলীয় ভাবে সভা বা মিছিলে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তবে এ দিন বিকেল ৪টে থেকে কৃষ্ণনগরের ফোয়ারার মোড়ে ইমনের পক্ষে সভা চলাকালীন পাশেই একটি দোকানে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে সিপিএমের জেলাস্তরের একাধিক নেতাকে।

ঠিক ওই সময়েই ইমনকে ধিক্কার জানিয়ে পোস্ট অফিস মোড় থেকে মৌনী মিছিল বের করেন সাংস্কৃতিক মঞ্চের লোকজন। সেখানে অবশ্য তৃণমূলের কোনও নেতাকে প্রত্যক্ষ ভাবে যোগ দিতে দেখা যায়নি। তবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত বলেন, ‘‘ইমনের সঙ্গে যা ঘটেছে, কৃষ্ণনগরের সংস্কৃতির সঙ্গে তা মেলে না। তবে হার্মাদ কোম্পানি সংস্কৃতির রক্ষাকর্তা সাজলে সেটা হাস্যকর ও কৃষ্ণনগরের পক্ষে আরও লজ্জার।’’ 

এর পাল্টায় সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এসএম সাদি বলেন, ‘‘শুনেছি লেখক, শিল্পী, শিক্ষক, অধ্যাপকরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিলেন। তাঁদের সম্পর্কে এই ধরনের অসভ্য শব্দ ব্যবহার তৃণমূলের সংস্কৃতি।’’ সাংস্কৃতিক মঞ্চের সম্পাদক অনন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘‘আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। এটা সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মিছিল।’’