লোকসভা নির্বাচনের ফল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল ‘বদল’ আসছে। পিডিসিএল নিয়ন্ত্রিত সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মচারী নির্বাচনে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের ভরাডুবির পরে সেই আশঙ্কায়  সিলমোহর দিল।  

 ১৭ আসনের পিডিসিএল শ্রমিক সংগঠনের একটিও দখল করা দূরে থাক তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাও নিম্নমুখী। সোমবার, রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রিত পিডিসিএলের কর্মচারী সংগঠনের নির্বাচনে ১৭টি’র মধ্যে একটি আসনও জিততে পারেনি  তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন। ১৭টির মধ্যে ১৫টি দখল করেছে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ। ২টি আসন সিটু-র। অথচ, বছরের পর বছর বামেদের দখলে থাকা ওই সংগঠনের হিসেব বদলে গিয়েছিল রাজ্য়ে পালাবদলের পরে। ১৭ আসনের সব ক’টিই দখল করেছিল তৃমমূল। এ বার, ভোটের ধারা বজায় রেখেই ১৫টি আসন দখল করে সাগরদিঘি এলাকার রাজনৈতিক সমীকরনে যে বদল আসছে তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখল ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ। বামেদের দু’টি আসন পুনরুদ্ধারও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিরোধীরা।

ভরা বাম আমলেও ওই এলাকা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে মন্ত্রী হয়েছিলেন সুব্রত সাহা। এ বারও সাগরদিঘি তাঁরই দখলে। তা হলে এমন ফল কেন? দৃশ্যত হতাশ জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সুব্রত। বলছেন, ‘‘পিডিসিএলের শ্রমিক সংগঠনের কাজে খুব একটা হস্তক্ষেপ করি না আমি। ব্যাপারটা দেখেন সংগঠনের সম্পাদক সমরেন্দ্রনাথ পর্বত। তিনি আমাদের হতাশ করেছেন, এটুকু বলতে পারি।’’

যা শুনে সমরেন্দ্রনাথ বলছেন, ‘‘সুব্রতবাবু  দলের নেতা ও বিধায়ক হতে পারেন, কিন্তু পিডিসিএলের কর্মী ইউনিয়নের উপর সে ভাবে তাঁর প্রভাব নেই। আসলে ইউনিয়নে সমান্তরাল দাপট চালাচ্ছেন দুই পক্ষ। একটির মদতদাতা রাজ্যের এক মন্ত্রী অন্যটির স্থানীয় নেতারা। বীতশ্রদ্ধ হয়েই শ্রমিকেরা বিজেপি’র দিকে ঝুঁকেছেন।’’

দলের এক জেলা নেতার কথায়, ‘‘সুব্রতর কপালে ভাঁজ পড়ছে নেত্রীর কাছে নিজের নম্বর কমে যাওয়ায়, কিন্তু সামগ্রিক ভাবে দেখলে, দলের এই গোষ্ঠী কোন্দল শ্রমিকদের বিমুখ করে তুলেছে। এটাই ভয়ের।’’

একদা বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীদের অন্যতম শেখ মোদাশ্বর আলম এখন বিজেপি সংগঠনের অন্যতম মুখ। তিনি  বলেন, “কিসের ভরসায় সংগঠন করব?  কর্মীদের দাবি দাওয়া, সমস্যা নিয়ে দলের নেতারা একবারও খোঁজ নেন না। তাই বিজেপি’ই ভরসা।’’

ওই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কংগ্রেসের  আইএনটিইউসি’র  সম্পাদক প্রসূন দাস বলছেন, “নির্বাচনে আমরা প্রার্থী দিইনি। কারণ তাতে শাসকদল ভোট ভাগের সুবিধা পেয়ে যেত। তা আমরা চাইনি। ২০০৮ সালের রোপায় বলা হয়েছিল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীরা এনটিপিসির হারে বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন । কিন্তু তা হয়নি। এই বঞ্চনা থেকেই বিদ্রোহ থেকেই তৃণমূলের ভরাডুবি।”