এখনও সব স্পষ্ট মনে পড়ছে পাড়ার লোকজনের। তাঁদের, যাঁরা ওই সন্ধ্যায় ছিলেন সরস্বতী পুজোর মাঠে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন ইতিউতি। 

মন্ত্রী রত্না ঘোষ চলে গিয়েছেন বেশ কিছু ক্ষণ আগে। মঞ্চে তখন চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান গাইছে এক শিশুশিল্পী। মাঠ আস্তে-আস্তে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে অনেকটাই। কয়েক জন ইতস্তত ঘোরাঘুরি করছেন। কয়েক জন দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান দেখছেন। 

মঞ্চ থেকে প্রায় পনেরো হাত দুরে পাতা গোটা পাঁচেক চেয়ার। একটাতে বসে সত্যজিৎ বিশ্বাস। পাশে দু’তিন জন মহিলা গল্প করছেন নিজেদের মধ্যে। পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন ক্লাবের সদস্য, সত্যজিতের ঘনিষ্ঠেরা। এটা সত্যজিতের নিজের ক্লাব। নিজের এলাকা। সব কিছু হাতের তালুর মতো চেনা তাঁর, সবটাই তাঁর নিয়ন্ত্রণে। অন্তত এমনটাই তাঁর ধারণা ছিল। 

নিজের ক্লাবে পুজো। তাই তিনি কোথাও যাননি এ দিন। ব্যক্তিগত  নিরাপত্তারক্ষীকে ছুটি চেয়েছিল, দিয়ে দিয়েছেন। পুজোর উদ্বাধন করে গিয়েছেন মন্ত্রী। অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে তখন সত্যজিৎ। সামনেটা ছেড়ে দিয়ে কাছেই দাঁড়িয়ে আছেন জনা চারেক লোক। হালকা মেজাজে তাঁদের সঙ্গে টুকটাক কথা বলছেন বিধায়ক। সকলেই পরিচিত। সকলেই এলাকার মানুষ। 

আচমকা ফট করে শব্দ। প্রথমে চমকে উঠে সকলে ভেবেছিল, কেউ পটকা ফাটিয়েছে। পরের মুহূর্তে তাঁরা দেখেন, মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন বিধায়ক। যারা আশপাশে ছিলেন, ছুটে আসেন। কয়েক জন হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিধায়ককে টেনে তুলতে। মাথাটা তুলতেই দেখা যায়,  ভেসে যাচ্ছে রক্তে। 

এরই মধ্যে কয়েক জন দেখতে পায়, এক যুবক মাঠ দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। কয়েক জন তার পিছু ধাওয়া করেন। মাঠ শেষে কৃষ্ণনগর-বগুলা রাজ্য সড়ক। যুবকটি দৌড়ে রাস্তায় উঠে যায়। সেই সময়ে চলে আসে লরি। ছেলেটা তার সামনে দিয়েই ছুটে পার হয়ে যায়। এ পাশে কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে যান বাকিরা। তার পরে ছুটে গিয়ে তাঁরা আর ছেলেটির হদিস পাননি। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছেলেটি বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়ে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল। তার পর সেখান থেকে মাঠের মধ্যে অন্ধকারে হাওয়া। তার আগে অবশ্য আগ্নেয়াস্ত্রটা সে ফেলে যায় অন্ধকার রাস্তাতেই।