কাকভোরে উঠে মায়ের কাছে ফুল কুড়োতে যাওয়ার বায়না ধরেছিল এক খুদে। মা অবাক। মৃদু ধমক দিয়েই বলেন, ‘‘ঠান্ডার মধ্যে এত সকালে ফুল কুড়োতে যাবি! কেন? আজ কী পুজো?’ ছেলে বলে, “আজ একুশে অক্টোবর পালন হবে স্কুলে। দিদিমনি বলেছে, পতাকা তুলবে। তাই ফুল নিয়ে যেতে হবে।’’

৭৫ বছর আগের কথা। ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই চিন (নানকিং), জাপান, জার্মানি, তাইল্যান্ড, মাঞ্চুরিয়া, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, বর্মা প্রভৃতি দেশ এই সরকারকে ভারতবাসীর স্বাধীন সরকার হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়। ব্রিটিশ ভারতে সেই স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি উৎসব পালিত হল রবিবার।

কৃষ্ণনগর থেকে শান্তিপুরে ডাকঘর মোড়, উত্তরে করিমপুর-তেহট্টেও দিনটি পালিত হল মহা সমারোহে। 

করিমপুরে কানাইখালির নেতাজি সুভাষ আদর্শ শিশু নিকেতন যেন ভুলেই গিয়েছিল ছুটির কথা। পতাকা তোলা হল, হল দেশাত্মবোধক গান, তার পর ২১ অক্টোবরের তাৎপর্য নিয়ে ছোট্ট বক্তৃতা। শিক্ষক-পড়ুয়াদের সঙ্গে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যোগ দিলেন অভিভাবকেরাও। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কিছু গাছ লাগাতে-লাগাতে প্রধান শিক্ষিকা রিমা বিশ্বাস বললেন, ‘‘শিশুরা যাতে নেতাজির আদর্শে দেশকে ভালবাসতে শেখে, সেই চেষ্টা তো আছেই।  তা ছাড়া গাছ হারিয়ে গিয়ে পরিবেশ বিষাক্ত হচ্ছে বলে স্কুলের যে কোনও অনুষ্ঠানেই গাছ লাগানোর প্রকল্প রাখি আমরা। শিশুরাও পরিবেশ সচেতন হয়।’’

এ দিন আজাদ হিন্দ স্বেচ্ছাসেবক পরিষদের পরিচালনায় ও মাতৃসেবা মিশনের পরিচালনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্‌যাপিত হয় দিনটি। কাঁঠালিয়া কেন্দ্রের আজাদ হিন্দ স্বেচ্ছাসেবক পরিষদের সংযোজক সুদর্শন বিশ্বাস বলেন, ‘‘আজাদ হিন্দ সরকারের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেক বছর এই দিনটি সামরিক সম্মানের সঙ্গে পালন করি।’’ 

মাতৃসেবা মিশনের প্রতিষ্ঠাতা বিধান মণ্ডল বলেন, “জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, নদিয়ার বিভিন্ন জায়গায় আমরা ২১ অক্টোবর দিবস পালন করেছি। এখনকার ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মানুষ ঐক্যবদ্ধ ভাবেই দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। অখণ্ড ভারতে গঠিত আজাদ হিন্দ সরকার স্বাধীন সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাক, এটাই চাই।’’