বছর ছয়েক আগেই গুটখায় রাশ টানতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজ্য সরকার। তখন থেকে প্রতি বারই এক বছর করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ বারেও ৭ নভেম্বর (জাতীয় ক্যানসার সচেতনতা দিবস) থেকে এক বছরের জন্য গুটখা-পানশালার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য সরকার। তার পরেও পরেও কি গুটখা-পানমশলার চেনা রমরমায় রাশ টানা গিয়েছে?

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, লালবাগ, ডোমকল, কান্দি, জঙ্গিপুর, বেলডাঙা-সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যা দেখা গিয়েছে তাতে উত্তরটা হচ্ছে— না! নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও চা, পানের গুমটি থেকে বিভিন্ন দোকানে এ দিনও রমরমিয়ে বিকিয়েছে হরেক কোম্পানির রংবেরঙের প্যাকেটবন্দি গুটখা, পানমশলা। 

মুর্শিদাবাদের উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ২ পার্থপ্রতিম গুপ্ত খাদ্য সুরক্ষা দফতরের জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘‘এর আগেও আমরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে তামাকজাত দ্রব্যের বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি গুটখা, পানমশলা নিয়েও সচেতন করেছি। অভিযানও চালানো হয়েছে। যাঁরা আইন ভেঙে গুটখা, পানমশলা বিক্রি করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া বাসিন্দাদেরও সচেতন করা হবে।’’

গুটখা কী?

সুপারি-চুন-প্যারাফিনের সঙ্গে তামাকের মিশ্রণ

ক্ষতিকর কেন?
প্রায় চার হাজার রাসায়নিকের মিশ্রণ। যাতে নাইট্রাসামিনস, আর্সেনিক, বেনজোপাইরিনের মতো ৪০টি কারসিনোজেনিক (ক্যানসারের ক্ষত সৃষ্টিকারী) পদার্থ উপস্থিত।

এ সব শুনে বহরমপুরের গাঁধী কলোনির ব্যবসায়ী দীপক মণ্ডল বলছেন, ‘‘যা কিছু অত্যাচার আমাদের উপর। গুটখা, পানমশলা বিক্রি কিংবা মজুত বন্ধ করতে হলে সবার আগে সে সবের কারখানা বন্ধ করা উচিত। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের উপর আইন প্রয়োগ করছে।’’ 

• পানমশলা কী?
রঙিন মিষ্টি মশলা। বিভিন্ন বীজ রং করে সেই মশলা তৈরি হয়।
• ক্ষতিকর কেন?
নাইট্রাসামিনস, আর্সেনিক, বেনজোপাইরিনের মতো ৪০টি কারসিনোজেনিক পদার্থ তো আছেই, উপরন্তু ওই রং-ও কারসিনোজেনিক।
• কী ক্ষতি হয়?
মুখগহ্বর, খাদ্যনালির ক্যানসার
• গুটখা, পানমশলা কী ভাবে 
ক্যানসার ডাকে?

কারসিনোজেনিক বস্তুগুলি মুখগহ্বরে ক্ষতের সৃষ্টি করে। ক্রমাগত খেয়ে গেলে ক্ষত ক্রমশ বাড়তে থাকে। শেষে ক্যানসারের চেহারা নেয়। পানমশলা কী?
রঙিন মিষ্টি মশলা। বিভিন্ন বীজ রং করে সেই মশলা তৈরি হয়।
•ক্ষতিকর কেন?
নাইট্রাসামিনস, আর্সেনিক, বেনজোপাইরিনের মতো ৪০টি কারসিনোজেনিক পদার্থ তো আছেই, উপরন্তু ওই রং-ও কারসিনোজেনিক।
• কী ক্ষতি হয়?
মুখগহ্বর, খাদ্যনালির ক্যানসার
• গুটখা, পানমশলা কী ভাবে 
ক্যানসার ডাকে?

কারসিনোজেনিক বস্তুগুলি মুখগহ্বরে ক্ষতের সৃষ্টি করে। ক্রমাগত খেয়ে গেলে ক্ষত ক্রমশ বাড়তে থাকে। শেষে ক্যানসারের চেহারা নেয়।

শহর হোক বা গ্রাম, বিপদ জেনেও দিব্যি বিকোচ্ছে সিগারেট, পানমশলা, গুটখা। কেউ সিগারেট শেষ করেই মুখে ঢালছেন পানমশলা। কেউ আবার জর্দা আর পানমশলা মিশিয়ে খাচ্ছেন। তার পরে যত্রতত্র পিক ফেলছেন। 
সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, ‘‘এমনটা বোধহয় আমাদের দেশেই সম্ভব। যে জিনিস খেলে ক্যানসার হতে পারে, সেই জিনিস কেউ জেনেবুঝে খাবেন কেন? এতে স্বাস্থ্য, অর্থ, পরিবেশ সব কিছুরই ক্ষতি হচ্ছে।’’

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে রাজ্যে প্রথম গুটখা বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। গত ২৫ অক্টোবর কমিশনার অব ফুড সেফটি তপনকান্তি রুদ্র ৭ নভেম্বর থেকে গুটখা ও পানমশলা উৎপাদন, বিক্রি ও মজুতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কিন্তু লোকজন সচেতন না হলে ওই নিষেধাজ্ঞায় যে কোনও কাজ হবে না তা-ও কবুল করছেন অনেকেই।  তাঁদের বক্তব্য, ‘‘অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নিষেধাজ্ঞা জারি হয় খাতায়-কলমে। কিন্তু বাস্তবে গুটখা ও পানমশলা প্রকাশ্যে এবং রমরমিয়েই বিক্রি হয়, হচ্ছেও।’’ 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুটখা, পানমশলা খাওয়ার ফলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখের ভিতরে এক ধরনের সুক্ষ্ম আবরণ থাকে। গুটখা বা পানমশলা খাওয়ার ফলে সেই আবরণ কেটে গিয়ে ক্ষত তৈরি করে। তার থেকে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। শুধু মুখ নয়, গলা, পাকস্থলি, খাদ্যনালি, ফুসফুসেও ক্যানসার হতে পারে। কিন্তু সে কথা শুনছে কে!