নিঝুম রাত। শহর জুড়ে নাগাড়ে চলছিল ঝিরঝিরে বৃষ্টি। তা বলে বহরমপুরের নিস্তব্ধ হোমটি একেবারে পাহারাহীন ছিল না।

বুধবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে দেখা গেল দোতলার শৌচাগারের জানালায় ঝুলছে বেডকভার। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ছুটে এসে দেখেন, দোতলার বারান্দার গ্রিল ভাঙা। আর ওই গ্রিলের ও পারে দু’টি ঘরে যারা ছিল, সেই সাত কিশোর আবাসিক উধাও। সাতজনই বাংলাদেশী। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের গ্রেফতারের পরে তাদের হোমে পাঠানো হয়েছিল। সাজা উত্তীর্ণ  এই আবাসিকদের দেশে পাঠানোরক জন্য নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

গত এপ্রিলে এই হোম থেকেই প্রায় একই কায়দায় পালিয়েছিল সাত কিশোর। তার পরেও কেন বাংলাদেশী আবাসিকদের উপর নজরদারি জোরদার করা হল না তা নিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। কেনই বা বাংলাদেশীদের এক সঙ্গে আলাদা ঘরে রাখা হল, উত্তর মেলেনি তারও। এর পিছনে অন্তর্ঘাত রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনেরই একাংশ। পুলিশ এখনও এই বিষয়ে কিছু না বললেও, তারাও এই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না। প্রশাসন আপাতত জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক আনন্দময় কোনার ও হোমের নৈশপ্রহরীকে শো-কজ করেছে। হোমের পাহাড়ায় থাকা দুই এনভিএফ কর্মী-সহ তিন জনকে হোম থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অপরাধে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের নির্দেশে ওই ১৪ জন বাংলেদেশীকে সমাজকল্যাণ দফতরের অধীন আনন্দ আশ্রম হোমে রাখা হয়। গত এপ্রিলে সেখান থেকে শৌচাগারের জানালার কাচ ভেঙে পালায় সাত জন।

পুলিশ জানিয়েছে,  নিরাপত্তারক্ষীরা দেখেন, দোতলার দু’টি ঘরে থারা সাত আবাসিকই উধাও। ওই দু’টি ঘরের গেট বারান্দায় বন্ধ ছিল। পরে দেখা যায় পিছনের দিকে ওই বাথরুমে যাওয়ার জন্য তারা তারা বাথরুমের গ্রিল ভেঙেছে। শৌচাগার থেকে নেমে তারা পাঁচিল টপকে পালিয়েছে।

জেলাশাসক পি উলগানাথন বলেন, ‘‘আগাম প্রস্তুতি না থাকলে এ ভাবে গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটত না। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড়া হবে না।’’