• কল্লোল প্রামাণিক 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জাগবে রুপোলি পর্দা, ঝাড়পোঁছ হচ্ছে জোরকদমে

Silver screen,Opening
চলছে প্রস্তুতি। নিজস্ব চিত্র
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে সিনেমা হল চালুর সরকারি ঘোষণা হতেই খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে হল মালিক ও হলকর্মীদের মধ্যে। 
 
অক্টোবরের শুরু থেকেই সিনেমা হল ফের খুলে যাওয়ার কথা। ফের জেগে উঠবে রুপোলি পর্দা। যদিও দর্শকের সংখ্যা থাকবে সীমিত। নানা বিধিনিষেধও বলবৎ থাকছে। তবু পুজোর আগে প্রেক্ষাগৃহ খুললে ভাল ব্যবসার আশা থাকছেই। তাই খবর আসতেই হলে ঝাড়পোঁছ শুরু হয়েছে। 
 
করোনার কারণে গত মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে রয়েছে তেহট্টের এক মাত্র সিনেমা হল ‘প্রান্তিক’। আগামী ২ অক্টোবর থেকে হল ফের চালু হবে বলে খবর আসতেই সোমবার থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ওই সিনেমা হলের মালিক রাকেশ সিংহ জানান, করোনার ধাক্কায় সমস্ত সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিক-কর্মচারী সকলেই রোজগার হারিয়ে অর্থকষ্টে পড়েছিলেন। আবার নতুন করে শো চালু হলে কর্মচারীরা কাজ ফিরে পাবেন। মালিকেরও আয় হবে। 
 
রাকেশের কথায়, “আমার একটি হলে জনা দশ কর্মচারী কাজ করেন। আমার নিজের পাশাপাশি ওই দশটি পরিবারের সংসার চলে সিনেমা হলের উপরে। হল বন্ধ হওয়া ইস্তক খুব সমস্যার মধ্যেও প্রথম চার মাস কর্মীদের সম্পূর্ণ বেতন দিয়েছি। পরের দু’মাস অর্ধেক বেতন দেওয়ার কথা বলেছি।” তিনি জানান, সরকারি বিধি মাফিক দর্শকদের মাস্ক পরে দূরত্ব মেনে আসনে বসতে হবে। ব্যবহার করতে হবে স্যানিটাইজ়ারও।  
 
একই কথা জানাচ্ছেন নাজিরপুরে ‘আরাধনা’ সিনেমা হলের মালিক মতিউর রহমানও। তিনি বলেন, “এত দিন সিনেমা হল বন্ধ থাকায় প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কোনও আয় নেই, কিন্তু কর্মচারীদের অল্প হলেও বেতন দিতে হয়েছে।” শুক্রবার থেকে আবার হল খোলা হলেও এখনই আয় তেমন হবে বলে তিনি আশা করছেন না। তাঁর কথায়, “বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দর্শক বেশি হবে না। বেশি লোক ঢুকতেও দেওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে প্রথম দিকে লাভ হবে না। সব স্বাভাবিক হতে আরও হয়ত দুই তিন মাস সময় লাগবে।”
 

সরকার ছাড়পত্র দিলেও নবদ্বীপের ‘আলোছায়া হলে’র মালিক ত্রিলোচন ভট্টাচার্য আবার শো চালু করার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, “সিনেমা হল খোলার কথা বলা হলেও এখন ট্রেন চলছে না। সিনেমা হল চালাতে গেলে যে সব আনুষঙ্গিক বিষয় থাকে সে ব্যাপারে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা খুব সমস্যার। আরও কয়েকটা দিন গেলে তার পর দেখা যাবে।” তবে কর্মচারীরা ভীষণ খুশি। প্রান্তিক হলের এক কর্মচারী তুফান ঘোষ জানান, এখন আসন, আলো ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ঠিকঠাক করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “প্রায় তেত্রিশ বছর সিনেমা হলে কাজ করছি। এমন অবস্থায় আগে কখনও পড়তে হয়নি। এই ক’মাস রোজগার তো ছিলই না, তা ছাড়া প্রতি দিনের কাজ ছেড়ে বাড়িতে বসে থাকাও খুব কঠিন। অবশেষে যে সিনেমা হল খুলছে, এর চেয়ে ভাল খবর আর নেই।” 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন