বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ধানতলা থানার আড়ংঘাটা সাহাপাড়ায়। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে বছর ৬৯ বয়সের ওই মহিলা রানাঘাট মহকুমা শাসকের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকের আড়ংঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহাপাড়ায় ওই বৃদ্ধার বাড়ি। তাঁর এক ছেলে এবং এক মেয়ে। ছেলে এবং মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাড়ির জমি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তা নিয়ে মাঝেমাঝেই তাঁদের মধ্যে গন্ডগোল হয়।

ওই বৃদ্ধা জানান, ছেলে বাড়ি থেকে বার করে দেওয়ার পর এখন তিনি মেয়ের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকছেন। তিনি বলেন, ‘‘ছেলেকে তার প্রাপ্য জমি দেওয়া হয়েছে। তাও আমাকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে। আমি এখন ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছি। ছেলে আমার ভরণপোষণের কোনও খরচ দেয় না।’’ ছেলে যাতে প্রতি মাসে তাঁকে টাকা দেয়, সেই দাবিই জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর ছেলে মৃণাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি মাকে কোনও দিন মানসিক বা শারীরিক অত্যাচার করিনি। আমি মাকে তাড়িয়ে দিইনি। মা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে।’’ পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, যতটা জমি তাঁর পাওয়ার কথা, ততটা তাঁকে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমি রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করি। তাতে দিনের শেষে মাত্র তিনশো টাকা রোজগার হয়। তাও প্রতিদিন কাজ হয় না। এই অর্থ দিয়ে আমি,আমার স্ত্রী এবং মেয়ে, এই তিনজনের সংসার ঠিক মতো চলে না। যে কারণে মায়ের দাবি মতো টাকা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” 

আড়ংঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের রমা লস্কর বলেন, “মা এবং মেয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। শুনেছি, ছেলেটি মায়ের উপর অত্যাচার করছে। মা এবং দিদিকে মারধর করেছে। তাঁদের বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করব।’’ রানাঘাটের মহকুমা শাসক হরসিমরন সিংহ বলেন, “অভিযোগের তদন্ত করে দেখা হবে। ছেলেকে তাঁর মায়ের জন্য ভরণপোষণ বাবদ টাকা দিতে হবে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে।”