দলের মন্ত্রীর এলাকার পঞ্চায়েতগুলিতে ভাঙন রুখতে বুধবার বিকেলে মন্ত্রী জাকির হোসেনের এলাকার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান ও সদস্যদের নিয়ে কলকাতার তৃণমূল ভবনে বৈঠক করলেন তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। 

গত শনিবার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে জামুয়ার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, দলীয় অঞ্চল সভাপতি এবং আরও সাত জন সদস্য বিজেপিতে যোগ দেন। সে দিনই আরও একটি পঞ্চায়েতের সদস্যেরাও যান বিজেপিতে যোগ দিতে। সে দিন  বেলডাঙায় এসেছিলেন শুভেন্দু। দলবদলের কথা শুনে জঙ্গিপুরের মহকুমা সভাপতির মাধ্যমে জরুর পঞ্চায়েতের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের বিজেপিতে যোগদান আটকান। দলে আশঙ্কা বাড়ে আরও দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত মির্জাপুর ও রানিনগরকে নিয়েও। বুধবার বিকেলে সেই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান-সহ সদস্যদের নিয়ে কলকাতায় তৃণমূল ভবনে বৈঠকে বসেন শুভেন্দু। 

বৈঠকে ছিলেন দলের অঞ্চল সভাপতিরাও। ছিলেন তৃণমূলের জঙ্গিপুর মহকুমা সভাপতি বিকাশ নন্দও। শুভেন্দুর কাছে এ দিন মূলত মন্ত্রী জাকিরের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ তোলেন পঞ্চায়েত সদস্যরা। অভিযোগ,  গত সপ্তাহে ওই ব্লকের দলীয় সভাপতি বদলের পর থেকে পঞ্চায়েতগুলিকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কখনও প্রধান বদলের হুমকি, কখনও সভাপতি বদলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। 

এ দিনের বৈঠকে শুভেন্দুবাবু  প্রধান ও সদস্যদের আশ্বাস দেন, পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যদের দলের কোনও নেতা হুমকি দিলে বা হুমকি দিয়ে কাজ করানোর চেষ্টা করলে তা যেন সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জানানো হয়। 

এ দিন বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলের জঙ্গিপুর মহকুমা সভাপতি বিকাশ নন্দও। বিকাশ জানান, শুভেন্দু অধিকারী এ দিন দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। পঞ্চায়েত সদস্যদের ক্ষোভের কথা শোনেন। 

পরে তাঁদের কাছে নিজের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর তুলে দিয়ে দলের মধ্যে কেউ পঞ্চায়েতের কাজে কোনও বাধা দিলে  তাঁকে তা জানাতে বলেছেন। দলের মধ্যে আর কোথাও কোনও পদে পরিবর্তন করা হবে না এমন আশ্বাসও দেন তিনি। এ দিনের  বৈঠকে অবশ্য দলের মন্ত্রী জাকির হোসেন-সহ বিশিষ্ট নেতাদের কাউকেই ডাকা হয়নি। তবে তাঁদের সঙ্গে পরে বৈঠক করা হবে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। 

কিন্তু  ব্লক সভাপতি পদে যে পরিবর্তন হয়েছে তার যে রদবদল হচ্ছে না বৈঠকে তা-ও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্লক সভাপতি পদ থেকে মুক্তিপ্রসাদ ধরকে সরিয়ে গৌতম ঘোষকে আনা হয়েছে।  

এ দিন  আলোচনা প্রসঙ্গে বৈঠকে জঙ্গিপুর পুরসভার কথাও ওঠে। শুভেন্দু বৈঠকে জানিয়ে দেন, জঙ্গিপুর পুরসভায় যে সমস্ত কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন আগামী পুরভোটে জঙ্গিপুরের তাঁদেরকেই মনোনয়ন দেবে দল। এক জনকেও বাদ দেওয়া হবে না। এটাই দলের সিদ্ধান্ত। পরের বছরই জঙ্গিপুরে পুরসভা ভোট। সে ক্ষেত্রে অনেক কাউন্সিলরেরই আশঙ্কা,  তাঁদের প্রার্থী করার ক্ষেত্রে বাদ সাধতে পারেন দলের মন্ত্রী জাকির। তাতে জঙ্গিপুরে দলত্যাগ শুরু হয়ে যাবে। 

সেটা রুখতেই শুভেন্দুর এই আশ্বাস। এ দিনের বৈঠকে অবশ্য বিকাশকে ডাকা হলেও মন্ত্রী বা জঙ্গিপুরের বিশিষ্ট নেতাদের কাউকেই ডাকা হয়নি। জাকির এ দিন রঘুনাথগঞ্জে একটি শান্তি মিছিলও করেন।  এ দিনের বৈঠক নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি মন্ত্রী জাকির। তবে তাঁর এলাকায় জামুয়ার পঞ্চায়েতে ভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “কাটমানির ভয়ে বিজেপিতে গিয়েছেন তাঁরা। ফের তাঁদের ফিরতে হবে তৃণমূলেই।”