তার আঁচড় থেকে রেহাই পায়নি কয়েদি থেকে কারারক্ষী— কেউই। দিন তিনেক ধরে বহরমপুর সংশোধনাগার এবং তার লাগোয়া এলাকার ত্রাস হয়ে উঠেছিল সে। শেষতক ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে তাকে পাঠানো হল শহরের বাইরে, গ্রামীণ নির্বাসনে।

পূর্ণবয়স্ক একটি হনুমান, আর তাকে নিয়েই গত কয়েক দিন ধরে নাজেহাল হয়েছিল জেলখানা চত্বর। সকালে, জেলখানার খোলা মাঠে তাঁদের স্বল্পক্ষণের মুক্তিতে পড়ে গিয়েছিল দাঁড়ি। মহিলা ওয়ার্ডের শৌচাগারের কাছে একলাই হেঁটে যাচ্ছিলেন অনুপ্রবেশকারী এক বাংলাদেশি মহিলা বন্দি, কল্যাণী বর্মণ। আচমকা ছাদ থেকে ঝুপ করে নেমে তাঁর হাতে কামড়ে দেয় সেই হনুমান। হাতে গভীর ক্ষত নিয়ে বুধবার তাঁকে ভর্তি করানো হয়  মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে। ডিউটিতে ছিলেন কারারক্ষী পঞ্চানন মুর্মু। টিপটিপ বৃষ্টি, ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। হনুমানের পরের শিকার তিনি। তাঁরও চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সকালে তার কামড়ে আহত হয়েছেন খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তসিন শেখ।

এর পর আর ঝুঁকি নেননি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সুপার টিআর ভুটিয়া বলেন, “গত দু’দিনে হনুমানটি এক কারারক্ষী এবং দুই কয়েদিকে জখম করেছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ দিন বাধ্য হয়ে আমরা বন দফতরকে জানিয়েছি।”

সেই হনুমান। নিজস্ব চিত্র।

এর পরেই ডাক পড়ে বন দফতররে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে চোর-পুলিশ খেলার পরে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করা হয় সেই হনুমানকে। বনদফতরের বহরমপুর (দক্ষিণ) রেঞ্জ অফিসার অমিতাভ পাল বলেন, “ওই এলাকায় হনুমানের দু’টি দলের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরেই মাপরপিট হচ্ছে। তাদেরই একটি ধাড়ি হনুমান যাকে সামনে পাচ্ছে কামড়ে দিচ্ছে। আপাতত ওকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করা হয়েছে। পরে ওকে শহরের বাইরে কোথাও ছেড়ে দেওয়া হবে।’’