• সেবাব্রত মুখোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পড়ে আছে তৈরি নাকছাবি, কিনবে কে!

There is no one keen to buy gold

Advertisement

সীতা থেকে হালের তিলোত্তমা— সময় তেমন ব্যতিক্রম তৈরি করতে পারেনি। তবে, হালে সেই হলুদ ধাতু প্রায় তপ্ত কড়ার মতো দুর্মূল্য হয়ে ওঠায় কারগির থেকে বাজার, সোনা যেন দূর গ্রহের ধাতু হয়ে উঠেছে। বিয়ের মরসুমে তাই ক্রেতারা নেই দোকানে। নতুন ডিজাইন তুলেও কারবারের মন্দায় মাছি তাড়াচ্ছেন কারিগর। মঙ্গলবার সোনার মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ডকে হারিয়ে দিয়েছে। ফলে সোনার বাজার যেন শীতঘুমে। 

বেলডাঙার এক স্বর্ণশিল্পী প্রায় নিঝুম দোকানে দিনভর বসে থেকে সটান উড়ে গেলেন আন্তর্জাতিক বিষয়ে। বলছেন, ‘‘আমেরিকার ড্রোন আক্রমণে ইরানের সেনা-কর্তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক আবহাওয়া ঘোরাল হয়েছে। শুনেছি তার জেরে সোনার দামে এমন ছেঁকা লাগার মতো।’’ বেলডাঙার হাতে তৈরি নাকছাবি রাজ্যের বাজারে সুনাম রয়েছে বেশ। মাঘ মাসে ভরা বিয়ের মুরসুম। কিন্তু তাতেও বিকোচ্ছে না নাকছাবি। বেলডাঙায় প্রায় ৬০০ স্বর্ণশিল্পী নাকছাবি শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে। গত দু-সপ্তাহ ধরে তাঁদের হাতে কোনও কাজ নেই। বেলডাঙার বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতির সম্পাদক অভিমন্যু কর্মকার বলেন, “সোনার দাম অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়েছে। বেলডাঙার নাকছাবির রাজ্যে জুড়ে ভাল বাজার রয়েছে। সোনার দাম বৃদ্ধিতে সমস্যায় তাঁরা।” শিল্পীরা জানান, ১০ গ্রাম পাকা সোনার দাম অক্টোবরে ছিল ৩৭,৪৫০ টাকা। ২৬ ডিসেম্বর সেই দাম ছোঁয় ৩৮,৬০০।  ৫ জানুয়ারি সেই দাম এক হাজার টাকা বেড়ে গিয়েছে,  ৩৯,৬০০। মঙ্গলবার ফের হাইজাম্প দিয়ে সেই দাম পৌঁছয় ৪০,৫০০ টাকায়। গত দু’দিনে সোনার দামে ৯০০ টাকা বৃদ্ধি কপালে ভাঁজ ফেলেছে শিল্পী থেকে ব্যবসায়ী সকলের। স্বর্ণ শিল্পীরা জানান, বেলডাঙার বাহারি নাকছাবি তৈরি হয়েও তাই ঘরে পরে রয়েছে। দাম বেশি তাই বাইরের মহাজনরা তা কিনছেন না। ফলে দৈনন্দিন মজুরি থেকে আয় বন্ধ। কবে ‘সুদিন’ ফিরবে তা কেউ জানেন না।

একই অবস্থা বহরমপুরের খাগড়া এলাকার সোনাপট্টির ব্যবসায়ীদের। রাজীব ধর তাঁদেরই এক জন, বলেন, “জেলায় আতঙ্ক ছিল কয়েক দিন। তা কেটেও গিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে আচমকা বৃদ্ধি পেয়েছে সোনার দর। ফলে যাঁরা সোনার জন্য ১ লক্ষ টাকা বাজেট রেখেছিলেন। নতুন দামে তাঁরা আর কুলোতে পারছেন না।’’

কান্দি মহকুমা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়দেব রায় বলেন, “সোনার দাম হুহু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গৃহস্থ মানুষের সোনা কেনার ক্ষমতা প্রায় তলানিতে। সাধারণ ক্রেতারা দোকান মুখি হচ্ছেন না। যাঁরা বাধ্য হয়ে ঢুকছেন, তাঁরা চার ভরির জায়গায় দুই ভরিতে প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।”

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন