• সুজাউদ্দিন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ছাত্র পড়িয়ে গুরুদক্ষিণা সুরাইয়াদের

Training
প্রশিক্ষণ: পড়াচ্ছেন সুরাইয়া। পাশে মাকসুদ হাসান। ডোমকলে। ছবি: সাফিউল্লা ইসলাম

Advertisement

ক্লাসেই শিক্ষকেরা মাঝেমধ্যেই কথাটা বলতেন।
রাতে ঘুমের মধ্যেও সেই কথাটা কানে বাজত সুরাইয়ার, ‘‘গুরুদক্ষিণা কিন্তু দিতেই হবে।’’
সাত জনের টানাটানির সংসারে কোথা থেকে আসবে শিক্ষকের বেতন? ক্লাসের মধ্যে নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হতো সুরাইয়া, সারিকুলদের। একদিন কোচিং ক্লাসের শেষে শিক্ষকেরা বললেন, ‘‘তোমরা এক দিন অনেক বড় হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে। তখন তোমাদের মতো অসহায় পরিবারের সন্তানদের পাশে দাঁড়াবে। সেটাই হবে গুরুদক্ষিণা।
শিক্ষকদের কথা সত্যি হয়েছে। কিন্তু সেদিনের শিক্ষকদের কথা ওঁরা ভুলে যাননি। এখন তাঁরা নিখরচায় পাশে দাঁড়িয়েছেন সেই পড়ুয়াদের যাঁরা আর্থিক ভাবে দুর্বল কিংবা যাঁদের দূরে কোথাও গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলোয় না।
মেটিয়াবুরুজের ছিপছিপে চেহারার সেই মেয়েটি ২০১৬ সালে বিসিএস অফিসার হয়ে কলকাতার সল্টলেকে সেল ট্যাক্স অফিসে যোগ দেন সুরাইয়া। সুরাইয়া জানাচ্ছেন, অর্থের অভাবে ভাল প্রতিষ্ঠানে না যেতে পেরে একটা সময় রাজাবাজারের বিনা বেতনে বিসিএস কোচিং ক্যাম্পে পড়তে যেতেন তিনি। সেই শিক্ষকদের জন্যই তিনি জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। কাজ সামলে কী ভাবে দেবেন দক্ষিণা?
সুযোগটা এসে গেল পুলিশ অফিসার স্বামী মাকসুদ হাসানের সৌজন্যে। তিনি ডোমকলের এসডিপিও হিসেবে কাজে যোগ দেন। সুরাইয়া কথাটা মাকসুদকে বলতে তিনিও রাজি হয়ে যান। সুরাইয়া বলছেন, ‘‘মুর্শিদাবাদের পিছিয়ে পড়া এলাকা ডোমকল। সেখানে ছুটির সময় আমি আসি। আর সেখানে এসেই মনে পড়ে গুরুদক্ষিণা শোধ করার আদর্শ জায়গা এটাই।’’ এলাকার ছাত্রদের ডেকে মহকুমা পুলিশ অফিসের সভাকক্ষেই কয়েক মাস ধরে শুরু হয়েছে বিএসএসের ক্লাস। মাকসুদ বলছেন, ‘‘সুরাইয়া ছুটিতে এসে ছাত্র পড়ায়। আমি নিজেও রবিবার একটা ক্লাস নিচ্ছি।’’
নিখরচায় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়ুয়াদের বই কিনতে একটি তহবিলও তৈরি করেছেন ওই দম্পতি। তৈরি হবে একটা গ্রন্থাগারও। ডোমকলের মুরারিপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বলছেন, ‘‘নিখরচায় বাড়ির কাছে এমন সুযোগ পেতে পারি, ভাবতেই পারিনি।’’  
প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের সহকারি অধিকর্তা (প্রশাসন) সারিকুল ইসলামও সুরাইয়ার মতো কথাটা পেড়েছিলেন নদিয়ার তৎকালীন জেলাশাসক পিবি সালিমের কাছে। জেলাশাসকের উদ্যোগে শুরু হয় বিসিএস কোচিং। সারিকুল জানাচ্ছেন, মেধাবী ছেলেমেয়েদের প্রশাসনে যোগ দেওয়া দরকার। 
কিন্তু অর্থাভাবে অনেকেরই ইচ্ছে থাকলেও স্বপ্নপূরণ হয় না। সেই কারণেই এমন প্রশিক্ষণ। সারিকুলের পাশাপাশি সোফিয়া আব্বাস, নিরঞ্জন পাল, বিজন পাটুলি, রাজ্য সমবায় দফতরের যুগ্ম নিবন্ধক মহম্মদ ইনাসউদ্দিনও সেখানে প্রশিক্ষণ দেন। সদ্য কৃষ্ণনগরের মহকুমাশাসক হয়ে এসেছেন কেরলের বাসিন্দা আইএএস ইউনুস রিশিন ইসমাইল। তিনিও উৎসাহিত করছেন পড়ুয়াদের। পিছিয়ে নেই কল্যাণীর মহকুমাশাসক স্বপনকুমার কুণ্ডুও। তিনিও একই ভাবে কোচিং দিচ্ছেন।
এ ভাবেই গুরুদের ঋণ শোধ করছেন ওঁরা।
  সহ প্রতিবেদন: মনিরুল শেখ ও সুপ্রকাশ মণ্ডল

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন